বঙ্গোপসাগরে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিকে স্বস্তিদায়ক ও যুগান্তকারী হিসেবে মন্তব্য করেছেন সমুদ্রসীমা ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা। নিষ্পত্তিকৃত সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সম্পদের ব্যবহারে দ্রুত পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাউসার আহমেদ গতকাল তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ আনুমানিক ২৫ হাজার ৬০২ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকার মধ্যে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশ পেয়েছে। বৃহত্ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে এ বিরোধ মিটে যাওয়া আমাদের জন্য অনেকটা স্বস্তিদায়ক। এতদিন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্দিষ্ট এবং নির্ধারিত ছিল না। আমাদের জায়গা চিহ্নিত ছিল না। রায়ের ফলে নিজেদের সীমানা নির্ধারণ হয়ে যাওয়াটাই একটা বড় সাফল্য। আর বাংলাদেশ বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের দাবিকৃত এলাকার সিংহভাগ পেয়েছে। তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার ফলে এ বিরাট জলসীমায় প্রাণিজ-অপ্রাণিজ, খনিজ-জৈবসহ সকল প্রকার সম্পদের মালিকানা পেয়েছে। এখন এ সম্পদ খুঁজে বের করতে হবে। সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করে তা জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারে নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কাউসার আহমেদ বলেন, আগে এ বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে ভারতের নৌবাহিনীর পাহারা-টহল ছিল। সে দেশের পতাকা উড়ত। এখন বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে। আমাদের নৌবাহিনী টহল দিবে। তাই বর্ধিত এ সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিদ্যমান সম্পদের অপ্রতুলতা দূর ও জনবল বৃদ্ধি করতে হবে।
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ বিষয়ে তিনি বলেন, তালপট্টি দ্বীপটি প্রায় ৯-১০ বর্গকিলোমিটারের একটি দ্বীপ। ১৫-২০ বছর আগেই এটি বিলীন হয়ে গেছে। এ এলাকা না পেলেও এর দক্ষিণে পাওয়া অঞ্চলটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগর ও ভূমির মূলবিন্দু থেকে সমুদ্রের দিকে ১৮০ ডিগ্রি সোজা রেখা সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল। আর ভারত বলে সমুদ্রতট বিবেচনায় ১৬২ ডিগ্রি রেখা থেকে সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল। সব বিবেচনায় নিয়েই ট্রাইব্যুনাল ১৭৭ দশমিক ডিগ্রি ৩ ডিগ্রি রেখায় সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করেছে। এ জন্যই বাংলাদেশ দাবিকৃত গোটা অঞ্চলটি পায়নি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নেভাল আর্কিটেক্চার এন্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ রায় বাংলাদেশের জন্য যুগান্তকারী অর্জন। এর মাধ্যমে বিরোধ মিটে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের ন্যায্য অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হল। রায়ে বাংলাদেশ দাবিকৃত অঞ্চলের পুরোটা না পাওয়ায় বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়নি বলেই তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, এখন সমুদ্রসীমা ও সম্পদ মনিটরিং ও ব্যবহারে কমিশন গঠণ করা জরুরি। দেরি না করে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
