আইন-শৃৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ চান ডিসিরা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৪, ২৩:১৭
জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বক্তব্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চেয়েছেন ডিসিরা। গতকাল মঙ্গলবার থেকে তিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর ডিসিরা তাদের বক্তব্যে এ প্রস্তাব করেন। প্রথম অধিবেশনে তিন জেলার প্রশাসক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পান। তারা হলেন, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জি এস এম জাফরুল্লা এবং রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল। রাঙ্গামাটি জেলার মোস্তাফা কামাল বলেন, প্রতিটি জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এর ক্ষমতা ডিসিদের দিতে হবে। তখন আইন-শৃঙ্খলা শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অধীনে একটি পৃথক পুলিশ ইউনিট করার প্রস্তাবও করেন তিনি। তার মতে উদ্ভূত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক সময় দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ পাওয়া যায় না। ডিসিদের নিয়ন্ত্রণে একটি পৃথক পুলিশ ইউনিট থাকলে তাদের তাত্ক্ষণিক কাজে লাগানো সম্ভব। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে পৃথকভাবে বরাদ্দ করতে হবে। প্রতিটি জেলায় ইন্টারনেট চালুর দাবি জানানো হয়। নাগরিক সেবাকে সহজলভ্য, দ্রুত, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্সাহ প্রদানে জেলা ই-অ্যাওয়ার্ড, এবং জাতীয় ই-অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়। ভোলা জেলায় ইকোনমিক জোন স্থাপনের প্রস্তাব গ্রহণের সুপারিশও করা হয়। জেলা বাজেট চান ডিসিরা ডিসি সম্মেলনের প্রথম দিনে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ‘জেলা বাজেট’ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। জেলা প্রশাসকদের এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় ‘জেলা বাজেট’ প্রণয়ন করতে চায়। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সাতটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘জেলা বাজেট’ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলাতেই এই প্রক্রিয়া চালু করতে চায় সরকার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এম এ মান্নান বলেন, জেলা প্রশাসকরা বেশ কয়েকটি বিষয়ে তাদের অভিমত তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে সরকারিভাবে যে খরচ দেয়া হয় এর পরিমাণ বাড়ানো এবং সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়ি নির্মাণের বরাদ্দ (বর্তমানে এক লাখ ২০ হাজার) বাড়ানো। অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের যেসব জায়গায় ভূমিকা রয়েছে সে বিষয়গুলোতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বৈঠকে জেলা প্রশাসকরা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মান উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার প্রস্তাব ডিসিদের কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত উচ্চ ক্ষমতার একটি কমিটির মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে ডিসিরা। স্থানীয়ভাবে পরিচালনা পরিষদের হাতে এ নিয়োগের ক্ষমতা থাকায় গত কয়েকদশকে শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পেয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে প্রবলভাবে। এমন অভিমত দিয়ে ডিসিরা বলেছেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন জরুরি। এবিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহীদ বলেছেন, ডিসিরা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং শিক্ষক নিয়োগে যেসব সুপারিশ করেছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে।