পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী নিহতের ছোট ভাই মশিহুর রহমান রুবেল।
সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি ময়মনসিংহ ছিলাম। নিহত হওয়ার সংবাদ জানতে পেয়ে ঢাকায় আসি। এসে জানতে পারি যে, তার ভাই ও ভাবীকে অজ্ঞাত আসামিরা হত্যা করেছেন। পরে পুলিশের ময়না তদন্ত শেষে ভাই ও ভাবীর লাশ দাফন করি। আমার ভাই পুলিশের বিশেষ শাখায় রাজনৈতিক সেলে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হয়তো কারও বিরাগভাজন হয়েছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে খুন করা হতে পারে বলে আমার ধারণা। ঐশী তার বাবা-মাকে হত্যা করতে পারে তা আমি বিশ্বাস করি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশের পরামর্শে আমি এ মামলা করেছি। এজাহারে কী লেখা হয়েছে তা পড়ে দেখিনি।’
গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসেন তিনি। সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে মামলার আসামি ঐশী রহমান, আসাদুজ্জামান জনি ও মিজানুর রহমান রনিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
যদিও ঐশী তার মা-বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে মর্মে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করে।
সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে এ সময় ঐশীর আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা বাদীকে জেরা করেন। অন্য দুই আসামির পক্ষে জেরার জন্য সময় চান তাদের আইনজীবীরা। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হক সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা রেকর্ড করেন। অন্য আসামিদের পক্ষে জেরার জন্য সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১১ আগস্ট পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।
চলতি বছরের ৬ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত এসবি দম্পতির বাসার কাজের মেয়ে সুমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় কিশোর আদালতে তার বিচার চলছে।
গত বছরের ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
