ভারতে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো দেশটির অন্যমত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র রেলওয়ের বাজেট পেশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকারের রেলমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া। তিনি রেলকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন। গতকাল মঙ্গলবার লোকসভায় বাজেট অধিবেশনে রেলমন্ত্রী এসব প্রুতিশ্রুতি দেন।
সামগ্রিকভাবে রেলের উন্নয়ন নিয়েই জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। রেলকে অচলাবস্থা থেকে তুলে আনতে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে রেলমন্ত্রী জানান। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বাজেটের আগে রেলের ভাড়া ১৪.২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এ দিনের বাজেটে ভাড়া বাড়ানোর কথা না বললেও রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি বিনিয়োগ ও পিপিপি মডেলকে মূল হাতিয়ার করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেই সায় দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তিনি মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদে বুলেট ট্রেন স্থাপন এবং ৫০টি নতুন ট্রেনের ব্যবস্থা করবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন। রেলে ফিরতি টিকেট এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, খাবারের মান বৃদ্ধি, ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী গৌড়া। তিনি টিকেট বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের সহজ সেবা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। রেলওয়ে বাজেট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, রেলমন্ত্রীর বাজেট পরিকল্পনামাফিক করা হয়েছে। এটা কোনো অ্যাডহক বাজেট নয়। আমরা এর মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
রেলমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় রেলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমি অনেক নতুন প্রকল্পের কথা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারতাম এবং আপনারা হয়তো হাত তালি দিয়ে আমাকে ধন্যবাদ জানাতেন। কিন্তু আমি সেটা করিনি। সেটা করা অন্যায় হবে। মন্ত্রী গৌড়া জানান, রেলের উন্নতি কেবল সরকারি বাজেট দিয়ে সম্ভব নয়। দরকার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)। রেলখাতে যাতে এফডিআই করা যায় সেজন্য মন্ত্রিপরিষদের অনুমতির প্রয়োজন বলে মন্ত্রী জানান।
