১৯৯৭ সাল থেকে সর্বনাশা মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের ভিটেমাটি। ইতোমধ্যে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছে। মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ডকে রক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হিসেবে ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। এ পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রকল্পের প্রায় ৭৫% কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ২৫% কাজের জন্য পুরো প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত দেড়বছরে উপজেলার পক্ষীয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বাটামারা গ্রামের বেশ কিছু এলাকা মেঘনা নদী গ্রাস করে ফেলেছে এবং অনেক পরিবার, বাড়িঘর ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বেড়িবাঁধের ওপর কুঁড়েঘর তুলে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঐ এলাকার ৩০০ মিটার তীর সংরক্ষণের জন্য আনুমানিক ৬,০০০ বালিভর্তি জিওব্যাগ, ১৩ হাজার ব্লক মজুদ রাখা আছে। কোনো অশুভ শক্তির ইশারায় অথবা ঠিকাদারের অলসতায় ৩০০ মিটার নদীর তীর রক্ষার জন্য বালিভর্তি জিও ব্যাগ এবং সিসি ব্লক মজুদ থাকার পরও এ সামান্য কাজটুকু করা হয়নি। বাটামারা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যেখানে সাইট বেড়ি দেয়া হয়েছে সেখানে নতুন বেড়িবাঁধ সরকারি বরাদ্দ ১৪ ফুট দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে মাত্র ৯ ফুট। বেড়ির উচ্চতা সরকারি বরাদ্দ ১১ ফুট থাকলেও দেয়া হয়েছে ৭/৮ ফুট। ঐ নতুন বেড়িবাঁধ থেকে বর্তমানে নদীর দূরত্ব ৩০০ ফুটের বেশি নয়। নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় ঐ এলাকার মানুষ রাত্রিবেলা খুবই আতংকের মধ্যে রাত্রিযাপন করে। নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে কাজ শেষ করার অংশও ক্রমাগত নদীর গর্ভে একসময় বিলীন হয়ে যাবে। মজুদ করা বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক দিয়ে অতি দ্রুত নদীর তীর রক্ষা করা না হলে নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে না বলে আমার বিশ্বাস। গতবছর বর্ষা মৌসুমে ঐ এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে পর পর ৬ বার পানি প্রবেশ করায় এলাকাবাসীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উচ্চ জোয়ারের চাপে যে কোনো সময় এ সরু বেড়িবাঁধ ভেঙে শত শত ঘরবাড়িসহ গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জানমাল রক্ষায় অতি দ্রুত ঐ ৩০০ মিটার কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আবুল কাশেম সিকদার,
শিল্প মন্ত্রণালয়,৯১, মতিঝিল বা/এ,
ঢাকা ১০০০
