ক্রমেই বাড়ছে বেকারত্নের হার। সাথে বাড়ছে অবিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা। ফলে তারা খুঁজে খুঁজে ওইসব কোর্সের উপর ডিগ্রি নিচ্ছে যার রয়েছে গ্লোবাল চাহিদা ও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রাধান্য। এ ধরনের কোর্সের মধ্যে রয়েছে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং ডিগ্রি। বাংলাদেশে এই কোর্সটি ২০০১ সাল থেকে সবচেয়ে সফল্যের সাথে পরিচালনা করছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ। এই কোর্সের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কথা হয় চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. আনিসুর রহমান খানের সাথে। তিনি বলেন, ‘এ দেশে পেশাদারী কোর্সের স্বল্পতা, বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রি গ্রহণের জটিলতা প্রভৃতি কারণে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের অনেক কোর্স করতে পারে না। কিন্তু শিক্ষার্থী যেকোনো বিভাগে থেকে পাশ করে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বা ব্রিটিশ সিএ সম্পন্ন করে বিশ্বের যেকোনো দেশে চাকরি করার সুযোগ পেতে পারে। এটি ব্রিটিশ কারিকুলামের সিএ ডিগ্রি এবং এর রয়েছে পুরো বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতা।’
তিনি জানান, এসিসিএ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং বডি। এটি ১৯০৪ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রায় ১৭৩টি দেশে এসিসিএ’র সাড়ে তিন লক্ষ শিক্ষার্থী ও লক্ষাধিক সদস্য রয়েছে। ৮০টি দেশে এসিসিএ’র নিজস্ব অফিস রয়েছে এবং বাংলাদেশেও এসিসিএ অফিস খুলেছে। ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের ১৭৩টি দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায় বলে জানান তিনি।
অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্যারিয়ার গড়তে প্রফেশনালদের কাছে এসব কোর্সের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিবিএ-এমবিএ পড়তে হলে এইচএসসি পাশের পর বিবিএর জন্যে ৪ বছর স্নাতক ডিগ্রির পাশের পর এমবিএ’র জন্যে ২/৩ বছর অর্থাত্ প্রায় ৬/৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এইচএসসি/ স্নাতক ডিগ্রির পর যেকোনো শিক্ষার্থী ৩/৪ বছরে আন্তর্জাতিক মানের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে পারে। একইসাথে পেতে পারে অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লায়েড অ্যাকউন্টিংয়ে অনার্স ডিগ্রি।’
তিনি বলেন, ‘বছরে জুন ও ডিসেম্বরে দুইবার ব্রিটিশ কাউন্সিলে একসাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। তবে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় যেকোনো দিন হতে পারে। যদি কেউ একটি বিষয়ে ফেল করে তবে শুধু ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে পারে। যে কারও এইচএসসি/ও-লেভেল করা থাকলে সিএটি করতে পারে। এটি পাশ করার পর এসিসিএর তিনটি বিষয় এফ-১, এফ-২, এফ-৩ শেষ হয়ে যায় এবং সরাসরি এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হতে পারে। অন্যদিকে এইচএসসি বা ও-লেভেল শেষে এফডিতে ভর্তি হয়ে সিএটি সম্পন্ন করতে পারে। এ ছাড়া এফডি, সিএটি সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা এসিসিএ স্কিলস মডিউলে জয়েন করতে পারে। কারও অনার্স, মাস্টার্স, সিএ, আইসিএমএ কোয়ালিফিকেশন থাকলে ৯টি বিষয় পর্যন্ত অব্যহতি পেতে পারে।’
আনিসুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী। যে কারণে আমাদের কলেজ এই শিক্ষা পরিচালনায় সুনাম অর্জন করে চলেছে। এখানে কেবল সেই শিক্ষকরা ক্লাস নেন যারা সিএটি/ এসিসিএ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আমরা নিজস্ব সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার প্র্যাকটিস করিয়ে থাকি। ফলে শিক্ষার্থীরা ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো করে। শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ব্রিটিশ কাউন্সিল আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক ব্যাচে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। আমাদের একাধিক ক্যাম্পাসে পড়ালেখার পরিবেশও নিশ্চিত হয়।’
জাহাঙ্গীর আলম
