২৫ বছরের জন্মান্ধ সুজনের এক মোবাইলই সম্বল। সুজন রপ্ত করেছে নিজের মোবাইলে অন্যের নাম্বার তুলে ফোন করা, রিসিভ করা ও গান শুনার কাজ। কীর্তন বা গানের অনুষ্ঠানের বায়না হয় মোবাইলে। শতাধিক মোবাইল নম্বর তার মুখস্থ থাকায় এলাকায় রীতিমত আলোচিত এখন সুজন। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ বাজারে গেলেই সুজনকে পাওয়া যায় কোনো চা স্টল বা জনসমাগম স্থানে কাঠে বাজনা বাজিয়ে গান করছে সুজন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া সুজনের সংসার চলে গান গেয়েই। ১৭ বছর আগে পিতা মারা যাওয়ার পর কেশরগঞ্জের পাল পাড়ার আতশী চন্দ্র পাল তার জন্মান্ধ সন্তানকে অতিকষ্টে বড় করেন। সংসারের অভাবের জন্য সুজন ছোটকাল থেকেই রপ্ত করে গান। এক সময় কীর্তনে ছিল তার গান গাওয়া। এখন তিনি গান করে বিভিন্ন বাজারে, চা স্টল, বাস স্টেশনসহ জনসমাগম স্থানে।
২/৩ বছর আগে মোবাইল ফোনের ব্যাপক বিস্তার ঘটনায় সুজন একটি মোবাইল কিনে মোবাইলে নম্বর তোলা রিসিভ করা ও গান শুনার চর্চা শুরু করেন। ২/৩ বার যে কোনো মোবাইল নম্বর শুনার পর মোবাইল নম্বরটি তার মুখস্থ হয়ে যায়। অক্ষর জ্ঞানহীন সুজনের মোবাইল পরিচালনা দেখে সুজন এখন রীতিমত আলোচিত।
সুজন জানান, এক সময় তার কাছে মোবাইল না থাকায় মানুষ তাকে খুঁজে পেত না। এখন মোবাইল থাকায় মোবাইলে বায়না হয় কীর্তন বা গানের অনুষ্ঠানের।
