রাজশাহী মহানগরী ও উপকণ্ঠে অনুমোদনবিহীন মৌসুমী কারখানায় নিম্নমানের ভেজাল লাচ্ছা ও সেমাই (রোলেক্স) উত্পাদনের হিড়িক পড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে অর্ধশত কারাখানার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন-রাত লাচ্ছা উত্পাদিত হচ্ছে। বিএসটিআইএর অনুমোদন ছাড়াই নগরীর ও আশেপাশের উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছে অর্ধশত লাচ্ছা তৈরির কারখানা। এক শ্রেণির অসাধু মৌসুমী ব্যবসায়ী ওইসব কারখানায় উত্পাদিত লাচ্ছা ও সেমাই প্রকাশ্যে বাজারজাতও করছে। রমজানের শুরু থেকে নগরী ও আশেপাশের এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অবৈধ লাচ্ছা ও সেমাই কারখানা। অবাধে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের ও ভেজাল আড়াই থেকে তিন হাজার খাঁচি বা টুকরি লাচ্ছা ও সেমাই। সম্প্রতি নগরীর হাজরাপুকুর এলাকার বিএসটিআইর মান সনদবিহীন মেসার্স শাহী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও বিএসটিআই কর্মকর্তারা অভিযানের সময় দেখতে পান প্রতিষ্ঠানটি মান সনদ গ্রহণ না করলেও উত্পাদিত লাচ্ছা ও সেমাইয়ের প্যাকেটে বিএসটিআইর মান চিহ্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানার মালিক অ্যাডভোকেট শেখ তোজাম্মেল আহমদকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং কারখানাটি সিলগালা করে ।
বিএসটিআইর আঞ্চলিক উপ-পরিচালক রেজাউল করিম সরকার বলেন, রাজশাহীতে বিএসটিআইর মান সনদ নেয়ার তালিকায় চিকন সেমাই নেই। ফলে স্বপ্রণোদিত হয়ে ভেজাল ও নিম্নমানের সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন, মুড়ি, ছোলা, ফলমূল, ভোজ্যতেল, সেমাই, মাছ ও মাংসের বিষাক্ত কেমিক্যালের মিশ্রণ না ঘটে সেদিকে নজর দেয়া হচ্ছে।
