প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জাফলং, কোম্পানীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ৪০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। বিভিন্ন স্থানে আউশ ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার বীজতলাও।
সরকারি সূত্র জানায়, গোয়াইনঘাটের ৯ টির মধ্যে ৮ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এই উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর আউশ ফসল প্লাবিত হয়েছে। অনেকের বাড়িঘরে পানি উঠে গেলে রমজানের মধ্যে তারা বিপাকে পড়েন। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ডুবে গেলে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ অনেকগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, তাহিরপুরের জাদুকাটা, জাফলংসহ বিভিন্ন স্থানে পাথর কোয়ারি ডুবে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
গোয়াইনঘাট থেকে বন্যা কবলিতরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা মুষলধারের বৃষ্টি এবং পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা ঢলে উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানিতে অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে মানুষের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, এলাকার সকল প্রতিষ্ঠান ও অনেক বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, পানিবন্দী মানুষদের কীভাবে সহযোগিতা করা যায় এ ব্যাপারে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানদের পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার মজুদ রাখতে বলা হয়েছে।
