শিগগিরই আসছে নতুন রফতানি নীতি। ওই নীতিতে থাকছে বেশ বড় কিছু পরিবর্তন। বিগত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যেসব পরিবর্তন এসেছে তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অভ্যন্তরীণ নীতি ঠিক করা হচ্ছে। সবচে গুরুত্ব পাবে রফতানি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি। এছাড়া প্রধান রফতানি পণ্য পোশাক শিল্পের ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন ও সার্বিক নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। রফতানি নীতি বিষয়ে সার্বিক আলোচনা করতে আগামী বুধবার প্রাথমিক সভা ডেকেছে ইপিবি। আর বিদ্যমান নীতির সুবিধা-অসুবিধা এবং নতুন নীতিতে সংযোজন বিয়োজন সম্পর্কে মতামত চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ইপিবি আগেই চিঠি দিয়েছে।
এদিকে নতুন নীতিতে রফতানি সহায়ক সেবার ওপর ভ্যাট আদায়ের বিদ্যমান নীতি বাতিলসহ ১৫টি প্রস্তাব করেছে বিজিএমইএ। প্রধান রফতানিকারক হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পের মর্যাদা চাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি আতিকুল ইসলাম।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে রফতানি খাতের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চায় সরকার। এজন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম-কানুন এবং বিশ্বায়নের প্রয়োজনের সঙ্গে মিল রেখে রফতানি ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, উদার করা হবে। শ্রমনির্ভর রফতানি পণ্য উত্পাদনকে উত্সাহিত করা, রফতানি পণ্য উত্পাদনে দেশি-বিদেশি উত্স থেকে কাঁচামালের যোগান সহজ করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাষীস বসু বলেন, রফতানি নীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে আমাদের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো। এজন্য সবার আগে আমাদের কমপ্লায়েন্ট হতে হবে, পণ্যের গুণগতমান উন্নত করতে হবে এবং ননট্যারিফ বাধাগুলো দূর করতে হবে। তিনি বলেন, প্রচলিত পণ্য ও পণ্যের বাজার ধরে রাখার পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও রফতানির গন্তব্য বাড়ানোর বিষয়টিও নতুন রফতানি নীতির মূল উদ্দেশ্য থাকবে। ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য খুব কম রফতানি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব দেশে রফতানি বাড়ানোর প্রচেষ্টা থাকবে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, রফতানিকারক ব্যবসায়ী, ব্যাংক-বীমা, গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় রফতানি নীতি চূড়ান্ত করা হবে।
তিন বছর মেয়াদী বর্তমান রফতানি নীতি চলতি ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের সঙ্গে শেষ হবে। পরবর্তী তিন বছর মেয়াদী রফতানি নীতি আগামী দেড় মাসের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইপিবির বৈঠকের মতামতের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আরো একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের চূড়ান্ত মতামত নিয়ে নতুন রফতানি নীতি মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদন দেয়া হবে।
