বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পর সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন দিন। না হয় আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদ থেকে বিদায় করা হবে।
গতকাল রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া একথা বলেন। রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সাংবাদিকদের সম্মানে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে খুন-রাহাজানি নিত্যকার ঘটনা হয়ে উঠেছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে ঠিকভাবে রোজা করতে পারছে না। বিরোধী দল দমনে ব্যস্ত এই সরকারের হাত থেকে জনগণ বাঁচতে চায়। ব্যাংক লুটপাট আর খুন-গুম ছাড়া সরকার দেশের মানুষকে কিছুই দিতে পারেনি। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, মানুষ এখন অসহায়। সরকারের সঙ্গে জনগণ নেই। তারা পুলিশ-র্যাব দিয়ে খুন-খারাবি করে ক্ষমতায় টিকে আছে। এভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
বিএনপি চেয়ারপার্সন আরো বলেন, দেশকে এই অবস্থা থেকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ আছে, দেশবাসীকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যারা দেশের ক্ষতি করছে তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।
ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি- আমাদের সিনিয়র নেতাদের সরকার আজ অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় সরকার গুম, খুন অপহরণে অভ্যস্ত।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আরএ গণি, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এমকে আনোয়ার, নজরুল ইসলাম খান, আ স ম হান্নান শাহ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম মোর্শেদ খান, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, শওকত মাহমুদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। ইফতার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, এনপিপি সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, হেফাজত ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ইসলামিক পার্টির সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মুবিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান, এনডিপির গোলাম মর্তুজা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ প্রমুখ। এছাড়া বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, কবি আল মাহমুদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমান, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাদেক খান, জাবি অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমান, আলমগীর মহিউদ্দিন, রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজে সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, এম আব্দুল্লাহ, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ। জামায়াত নেতাদের মধ্যে নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, আইন বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, অধ্যক্ষ যায়নুল আবেদীন, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, মোবারক হোসেন প্রমুখ।
