শামীমকে খুন করতে ৬ লাখ টাকায় রফা হয়

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৮
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীমকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এদের মধ্যে নূরে আলম সিদ্দিকী নামের একজনকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে চিহ্নিত করে গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেছেন, শামীমকে হত্যার জন্য ছয় লাখ টাকায় অন্যদের সঙ্গে ‘রফা’ হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছেন তারা। গ্রেফতারকৃত বাকি দুইজন হলেন- রানা হাওলাদার (২৫) ও নাজিমুল হক মিঠু (৩৯)। গতকাল বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, গ্রেফতারকৃত তিন জনের মধ্যে রানা মোটর সাইকেল চালিয়ে হামলায় নেতৃত্ব দেন। হামলায় ব্যবহূত লাল রঙের একটি মোটর সাইকেলও পুলিশ উদ্ধার করেছে। জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, মঙ্গলবার রাতে পল্টনের একটি হোটেলের সামনে থেকে রানাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী শেরেবাংলা নগর থেকে গ্রেফতার করা হয় মিঠুকে। পরে নিউ ইস্কাটনের একটি বাসা থেকে নূরে আলম সিদ্দিকীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হক শামীম গত ১৯ জুন সকালে অফিসে যাওয়ার সময় ধানমণ্ডি এলাকায় হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করলে তার বাম হাতে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শামীমকে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হয়ে সিএমএইচে চিকিত্সা করানো হয়। উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, ওই হামলার মূল পরিকল্পনা করে নূরে আলম। সে ছয় লাখ টাকায় অন্যদের ভাড়া করে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হারুন, মেহেদী, মনির ও জুয়েল নামের চারজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে র্যাবের এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এক অংশীদার শামীমকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, হামলার সময় মোটর সাইকেল চালাচ্ছিলেন রানা। তার সঙ্গে ছিলেন মেহেদী ওরফে বুলেট ও হারুন। গত সোমবার মেহেদী ও হারুনকে র্যাব গ্রেফতার করে। আর হামলায় ব্যবহূত মোটর সাইকেলটিসহ রানা আমাদের হাতে ধরা পড়েছে। এনামুল হক শামীম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অন্যতম পরিচালক। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে তার। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা শামীম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের ছেলে শামীম ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি ছিলেন। এদিকে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ড. এম. এ হান্নান ফিরোজ গতকাল এক প্রতিবাদলিপিতে বলেছেন, এনামুল হক শামীমের সঙ্গে তার কোন দ্বন্দ্ব বা বিরোধ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শামীম তার সঙ্গে কাজ করছেন। পাশাপাশি গতকাল পত্রিকায় কামাল হোসেন নামে একজন চাকরিচ্যুতির কথা বলা হয়; কিন্তু এই নামে কোন কর্মচারীকে কখনই চাকরিচ্যুত করা হয়নি। গোয়েন্দা পুলিশও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তদন্তে ড. এম. এ হান্নান ফিরোজের নাম আসেনি। পাশাপাশি শামীম নিজেও তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি। গ্রেফতারকৃত ৭ জন ৫ দিনের রিমান্ডে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এনামুল হক শামীমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতারকৃত সাতজনের প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নূরে আলম সিদ্দিকী (৪৭), রানা হাওলাদার (২৫), নাজিমুল হক মিঠু (৩৯), মো. মনির হোসেন (২৮), মো. হারুন (২৭), মো. মেহেদী হাসান (২২) ও নজরুল ইসলাম জুয়েল (২৩)। গতকাল বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার উপ-পরিদর্শক মতিউর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে হারুন, মেহেদী, মনির, জুয়েলকে ১০ দিন ও অন্যদের ৭ দিন করে রিমান্ড চান। এ সময় আসামিদের রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। নথিসূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর পল্টনের প্রীতম হোটেলের সামনে থেকে মঙ্গলবার রানাকে, শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে মিঠুকে ও নিউ ইস্কাটন এলাকা থেকে নূরে আলমকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া মনিরকে রাজবাড়ীর পাংশা, হারুনকে ময়মনসিংহ এবং মেহেদী ও জুয়েলকে রাজধানীর তেজতুরীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে র্যাব। প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুন সকালে ধানমণ্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের মোড়ে মোটর সাইকেল আরোহী তিন সন্ত্রাসী এনামুল হক শামীমকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ওই সময় তিনি নিজের গাড়িতে করে ধানমণ্ডির বাসা থেকে সিদ্ধেশ্বরীর অফিসে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় পরেরদিন শুক্রবার রাতে ধানমন্ডি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন শামীমের চাচা নাসির উদ্দিন।