ঈদের শপিংয়ের জন্য রাজধানীর রাস্তায় সৃষ্টিছাড়া জ্যামে অনেকেই আর পড়তে চান না। কর্মব্যস্ত জীবনে কেবল এমন ট্রাফিক জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতেই বা চায় কে! এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতেই ভরসা করতে পারেন অনলাইনে শপিংয়ের ওপর। বর্তমানে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অনলাইন শপিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনলাইন শপিং নিয়ে জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব
নাজমুল চাকরি করে একটি বেসরকারি সফটওয়্যার ফার্মে। অন্যদিকে সাবরিনা একটি স্কুলের শিক্ষক। সারা বছর তো বটেই, বিশেষ করে ঈদ আসলে এই দম্পতির মধ্যে বেশ ভালো ধরনের মনোমালিন্য শুরু হয় শপিং নিয়ে। এর মূল কারণ হলো নাজমুলের সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনি আর রবিবার। অন্যদিকে সাবরিনার ছুটি কেবল শুক্রবার। ফলে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে দুই জনের একসাথে বের হওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু তাই বলে তো আর ঈদের শপিং বন্ধও রাখা যায় না। এর আগে গত বছর পর্যন্তও হয় সাবরিনাকে একাই যেতে হয়েছে শপিংয়ে অথবা একেবারের রোজার শেষের দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে যাতে করে অনেক রাতে হলেও নাজমুলের সাথে শপিংয়ে যাওয়া যায়। তবে এ বছরে এসে শপিংয়ের ঝামেলা ঘরে বসেই মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই দম্পতি। কীভাবে? উত্তরটা এখন অনেকেরই জানা—অনলাইনে।
নাজমুল-সাবরিনা দম্পতির মতো যাদের পরস্পরের সময় মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে, তাদের কাছে তো বটেই এখন অন্য অনেকের কাছেও অনলাইন শপিং হয়ে উঠছে ভরসার নাম। বিশেষ করে রোজার মাসে ঢাকার রাস্তায় যে সৃষ্টিছাড়া জ্যামের আবির্ভাব ঘটে, তাকে এড়ানোর জন্য কর্মব্যস্ত নাগরিকেরা অনলাইনেই বিকল্প খুঁজে নিচ্ছেন এখন।
জীবনের অপারাপর ঘটনার মতো ঈদ উত্সব আয়োজনে স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে এসেছে প্রযুক্তি। অনলাইন শপ থেকে বেশ খোশ মেজাজেই কেনাকাটা সেরে নিতে পারছেন কর্পোরেট কর্মী থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত চাকুরে কিংবা ব্যবসায়ী। রোজার শুরু থেকে জায়গায় বসেই প্রয়োজনীয় সদাই করতে শুরু করেছেন তারা। এখন অনেকটা স্বস্তিতেই কাটছে কর্মব্যস্ত এসব নাগরিকের জীবন। অনলাইনে বিপুল পণ্য সমাহারের মধ্য থেকে পছন্দের পণ্য সহজে খুঁজে পাওয়া, কার্ডের মাধ্যমে ঘরে বসেই কেনাকাটা করা এবং দোকান থেকে সরাসরি প্রিয়জনের কাছে উপহার পৌঁছে দেওয়ার মতো নানা সুবিধার কারণে দেশে বর্তমানে ঈদ কেনাকাটাতে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন শপগুলো। কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য আর স্বস্তি এনে দিয়ে ঈদ বাজারের প্রায় দেড় শতাংশ কেনা-বেচা এখন চলে যেতে শুরু করেছে অনলাইনে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, এবার ঈদে অনলাইনে সাড়ে তিনশ কোটি টাকার কেনা-বেচা হবে। ঈদ কেনা-কাটার অন্তত দেড় শতাংশ কেনা-কাটা হবে অনলাইনে এমন আশা ব্যক্ত করছেন তারা। অনলাইন সাইটগুলোর সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, রোজার শুরু থেকেই ঈদের সাথে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর দিকে আগ্রহ বেড়েছে ক্রেতাদের। তাছাড়া রোজার মাসের সাথে উপযাগী বিভিন্ন পণ্যও বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে রোজার মাসের শুরু থেকেই।
অনলাইনে কেনাকাটার রকমফের
অনলাইনে বেচাবিক্রি হয়ে থাকে কয়েক ধরনের ওয়েবসাইট বা লিংকের মাধ্যমে। এর মধ্যে আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেসবুকভিত্তিক পেজগুলো। এর বাইরে প্রতিষ্ঠিত ই-শপগুলো তো রয়েছেই। তাছাড়া ক্লাসিফায়েড ওয়েবসাইটগুলোও জমজমাট হয়ে উঠছে সময়ের সাথে। আবার অফলাইনে ব্যবসারত প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন নিজেদের ই-শপ বা ফেসবুক পেজে বেশ সক্রিয়ভাবেই নিজেদের অবস্থানকে অনলাইনে শক্তিশালী করে নিচ্ছে।
ফেসবুক ই শপ :বাংলাদেশে ফেসবুকে পেজ খুলে ব্যক্তি উদ্যোগে বেচা-কেনার শুরু হয় হ্যান্ডিক্র্যাফট দিয়ে। ধীরে ধীরে তা ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস, শাড়ি, কামিজ, টি-শার্ট ছাড়িয়ে নানান ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে স্টাইল ওয়ার্ল্ড কালেকশন, বিডি অ্যামাজন, কাইমুদি, টি-জোনবিডি, রূপকথা জামদানী, অনলাইন শপিং সেন্টার, অনলাইন ক্লদ শপিং, জুনিস ওয়্যারড্রোব, বাংলাদেশি গহনা, ঝুমু ফ্যাশন হাউজ, মাই অপ্সরা, অকাল্ট জিন্স, ইগ্নিশন, ক্লিক অ্যান্ড বাই, অ্যাসথেটিক্স ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
অনলাইন ই-শপ :অনলাইনে কেনাকাটার অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্থান হিসেবেই ই-শপগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে কয়েকবছর হলো। এই অনলাইন ই-কমার্স পোর্টালের যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে রকমারি, আজকের ডিল, ই-সুফিয়ানা, উপহারবিডি, বিপণী, ক্লিকবিডি, প্রিয়শপ, আইফেরি, রায়ান্স, ভাইপার, বাই২৪, বিডি হাট, আপনজোন, ইউশপ, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রভৃতি ই-শপ। এসব ই-শপের অনেকগুলোই আসলে নিজেদের উত্পাতিক পণ্য বিক্রি করে না। বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণত পণ্য সংগ্রহ করেই এসব ই-শপ ব্যবসা করে থাকে। আবার নিজেদের উত্পাদিত পণ্য নিয়েও অনেকে চালিয়ে যাচ্ছেন ই-শপ। এসব ই-শপের মূল লক্ষ্যই হলো তরুণ-তরুণী। ফলে এসব সাইটে তারুণ্যনির্ভর পণ্যের সমাহার লক্ষ করা যায়। তরুণদের জন্য পোশাক ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জুয়েলারি, ঘড়ি, গ্যাজেটের দিকে নজর দিয়ে থাকে ই-শপগুলো। তবে সময়ের সাথে সাথে ই-শপের ব্যাপ্তিও বাড়ছে। ফলে দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই বিক্রি হচ্ছে এসব সাইটে। চাল-ডাল থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যের জন্যই এসব সাইটের ওপর নির্ভর করছেন ক্রেতারা।
ক্লাসিফায়েড মার্কেটপ্লেস :মূলত পুরোনো বা ব্যবহূত পণ্য কেনা-বেচার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই ক্লাসিফায়েড সাইটগুলো যাত্রা শুরু করে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ক্লাসিফায়েড মার্কেটপ্লেসগুলো ব্যবহার করেও চলছে অনলাইনে পণ্য বেচা-কেনা। বিক্রয় ডটকম, ক্লিক বিডি, এখানেই ডটকম এবং ওএলক্স বাংলাদেশের অন্যতম ক্লাসিফায়েড অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এখান থেকে যেকোনো ক্রেতা বা বিক্রেতা তাদের পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন।
মূল্য পরিশোধ
আমাদের দেশে অনলাইন শপিংয়ের যাত্রার শুরুর দিকে একটি বড় সমস্যা ছিল পেমেন্ট সিস্টেম। তবে সময়ের সাথে সাথে অনলাইন শপিংয়ে পেমেন্ট সিস্টেমে যুক্ত হয়েছে বৈচিত্র্য। সাধারণভাবে ক্রেডিট কার্ড ছাড়াও ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতো অনেক ব্যাংকের ডেবিট কার্ডের মাধ্যমেই বেশিরভাগ ওয়েবসাইটে মূল্য পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এর বাইরেও মোবাইল ব্যাংকিং চালু হওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ ওয়েবসাইটই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট সমর্থন করতে শুরু করেছে। আর ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম তো রয়েছেই, যাতে অর্ডার করা পণ্য হাতে পেয়ে তারপরেই টাকা পরিশোধ করা যাবে। ই-শপগুলো থেকে জানা যায়, আমাদের দেশে এখনও গ্রাহকরা ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেমেই বেশি স্বচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকেন। যে কারণে তারাও ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন। তবে দিন যত যাচ্ছে, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাটাকার পরিমাণ তত বাড়ছে বলে জানান তারা।
পণ্য সরবরাহ
আমাদের দেশে এখনও প্রযুক্তির ব্যবহার ঢাকায় যতটা, ঢাকার বাইরে ঠিক ততটা নয়। ই-শপিংয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ করা যায়। অনলাইনে শপিংয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয় ঢাকা থেকে। বাকি ৩০ থেকে ৪০ ভাগ ঢাকার বাইরে থেকে সম্পন্ন হয়। ঢাকার বাইরে আবার বড় শহরগুলো থেকেই অর্ডার বেশি হয়ে থাকে। তবে দিন দিন ঢাকার বাইরে থেকেও অনলাইনে পণ্যের অর্ডার বাড়ছে। ই-শপ এবং ফেসবুক পেজগুলো থেকে পণ্য বিক্রিতে সাধারণত এখন সারা দেশেই পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে ঢাকার মধ্যে সর্বোচ্চ তিন দিনে পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অনেকেই এখন ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারির অফারও দিয়ে থাকে। ঢাকার বাইরের ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহে সর্বোচ্চ ৫ দিন পর্যন্ত সময় নিয়ে থাকে শপগুলো। তবে এর অনেকটাই নির্ভর করে পণ্যের ধরনের ওপর। ঢাকার বাইরে মূলত শপগুলোকে কুরিয়ারের ওপরই নির্ভর করতে হয়। কারণ হিসেবে আমাদের ই-শপগুলো নিজেদের ডেলিভারি সিস্টেম তৈরির মতো এখনও অতটা বড় হয়ে উঠতে পারেনি বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পণ্য সরবরাহে অনেকে ঢাকার মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন উপলক্ষে ‘ঢাকার মধ্যে ডেলিভারি ফ্রি’ অফার হরহামেশাই দেখা যায়। আর ঢাকার মধ্যে ডেলিভারির খরচ মূলত ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। ঢাকার বাইরে এর পরিমাণ ১০০ টাকার বেশি নয়। দেশ থেকে দেশের বাইরে পণ্য সরবরাহও করে থাকে বেশকিছু ওয়েবসাইট। সেক্ষেত্রে সাধারণত সুন্দরবন, ফেডেক্স বা ডিএইচএল-এর সেবা গ্রহণ করা হয়।
অনলাইন শপিংয়ের জন্য
দেশি কিছু ওয়েবসাইট
www.akhoni.com
www.ajkerdeal.com
www.esufiana.com
www.bangladeshbrand.com
www.amardesheshop.com
www.onlineshopdiamondworldltd.com
www.bestwaybazaar.com
www.shurjomukhi.com.bd
www.upoharbd.com
www.kaymu.com.bd
bikroy.com
ekhanei.com
okhanei.com
www.bdhaat.com
www.clickbd.com
dhakasharee.com
hutbazar.com
dinrat.com
deshigreetings.com
www.sholoana.com
www.marketa2z.com
www.hotofferbd.com
www.bdbids.com
