বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই প্রতি শুক্রবারের আয়োজনে থাকছে একটি করে দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল-এর কথা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বণ্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণের জন্য যে কয়েকটি বনাঞ্চলকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি বনাঞ্চল হলো মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বর্ষিজোড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এর আরেক নাম লাউডগা রিজার্ভ ফরেস্ট। প্রায় আটশো একরেরও বেশি জায়গা নিয়ে বর্ষিজোড়া পাহাড়ের উপরে প্রতিষ্ঠিত এ বনের প্রধান বৃক্ষ মূলত শাল। ছোট ছোট টিলা সমৃদ্ধ চিরহরিত্ পাতাঝড়া এই বনভূমিকে ১৯১৬ সালে রিজার্ভ ফরেস্ট হিসেব ঘোষণা করেন তত্কালীন ব্রিটিশ সরকার। পরবর্তিতে ৮৮৭ একর জায়গা নিয়ে ২০০৬ সালে এই বনভূমি ও তার আশপাশের অঞ্চলকে ইকোপার্কের আওতায় আনা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ইকোপার্ক এলাকায় একটি ২ কক্ষ বিশিষ্ট ইকো-কটেজ, ৪টি পিকনিক স্পট (পাকা), ২টি অবজারভেশন টাওয়ার, ৩টি সিকিউরিটি পোস্ট, ৪টি পাবলিক টয়লেট, টিকেট কাউন্টার, ১টি সুদৃশ্য গেইট, দুই কিলোমিটার দীর্ঘ হেরিং বোন বন্ড রাস্তা ও বিদ্যুত্ লাইন করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকল্পের আওতায় একটি ইকো-কটেজ, দোলনা ও অন্যান্য রাইড সংযোজন করে শিশু কর্ণার নির্মাণ, লেইক নির্মাণ, ফাইবার বোট ও প্যাডল বোট এর মাধ্যমে নৌ-বিহারের সুযোগ সৃষ্টির কার্যক্রম পরিকল্পনাধীন রয়েছে। এ ছাড়া ইকোপার্ক এলাকায় আগর, ঔষধি, বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের বাগানও তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতির নৈসর্গিক শোভায় লালিত এ পার্কে প্রধান প্রধান উদ্ভিদের মধ্যে শালের পাশাপাশি রয়েছে সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, আওয়াল, বনাক, চিকরাশি, বহেড়া, আমলকি, হরিতকি, লোহাকাঠ, জারুল, অর্জুন ইত্যাদি। প্রধান প্রধান বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে— বানর, হনুমান, বড় বাঘডাশা, মেছো বিড়াল, কাঠবিড়ালী, সজারু, বেজি, শিয়াল, গুইসাপ ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। পাখির মধ্যে পেঁচা, ঘুঘু, বক, কাক ইত্যাদিও দেখা মেলে বেশি। আবার মাঝেমধ্যে বনের আশপাশে কিছু মায়াহরিণেরও দেখা মেলে। যারা মৌলভীবাজা কিংবা সিলেট ঘুরতে যান তারা ঘুরে আসতে পারেন এই চমত্কার ইকোপার্কটি থেকে। এ জন্য বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকে মৌলভীবাজার শহরে এসে শহরের মধ্যে অবস্থিত সরকারি কলেজের পাশের রাস্তা দিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা বা গাড়িতে দুই কিলোমিটার দক্ষিণে এগুলেই চোখে পড়বে বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক।
