সাভারে ৫০ হাজার মানুষের পানিবন্দী জীবনযাপন

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৪, ২২:২৯
সাভারের তেতুঁলঝোড়া ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি জীবন যাপন করছেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যাদুরচরে কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে সড়ক নির্মাণের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া যাদুরচর মাদ্রাসাগামী রাস্তাটি সংস্কার কাজের পর উঁচু হওয়ায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তেমন সুফল পাচ্ছেন না। সরেজমিন দেখা গেছে, তেতুঁলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর, যাদুরচর, মধুরচর, মধ্যপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরে প্রায় ৬ মাস পানিবন্দি জীবন যাপন করছেন। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের যাদুরচরে কোন প্রকার কালভার্ট নির্মাণ না করা এবং সড়কের পাশে খালটি দখল ও ভরাট করে নানা স্থাপনা তৈরি করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া যাদুরচর মাদ্রাসাগামী রাস্তাটি সংস্কার কাজের পর উঁচু হওয়ায় এ সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জন্য দুশ’ ফুট প্রশস্ত জায়গা রয়েছে। মহাসড়কের পাশে অব্যবহূত স্থান শর্ত সাপেক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের জন্য লিজ নেয়। লিজ গ্রহণকারীগণ শর্ত ভংগ করে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে শর্ত ভংগকারীগণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাকে মাসোহারা দিয়ে স্থাপনা তৈরি করে সরকারি খাল দখল করেছেন। ফলে বৃষ্টির পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য তারাও রাস্তার মাঝে বক্সকালভার্ট ও পাইপ দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। এলাকার ৭৫ ঊর্ধ্ব বাসিন্দা মজিবুর রহমান অভিযোগ করে জানান যাদুরচর গ্রামের সামনে দিয়ে প্রবাহিত খাল দিয়ে স্বাধীনতার পরও পালতোলা নৌকা চলাচল করতো। ক্রমান্বয়ে খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পানিবন্দি হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে থৈ-থৈ। কোমলমতি শিশুরা পানি ভেঙ্গে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। ফলে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জীবিকার বাহন পানিবন্দি হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে এলাকার অর্থনৈতিক চাকা। যাদুরচর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী সরকার তাসেকের উদ্যোগে গ্রামবাসীদের রক্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উপর দিয়ে বাঁশের তোরণ নির্মাণ করে পাইপ লাগিয়ে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে পানি অপসারণ করছেন তিনি। তার পানি নিষ্কাশনের এ পদ্ধতি দেখতেও কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কল্যাণপুর বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদম আলী বলেন, খাল বেদখল হওয়ায় ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তাদেরকে নোটিস প্রদান করা হবে। এলাকাবাসীর সমস্যা নিরসনে শিগগিরই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।