নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলামের (৫৫) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত ওজোনপার্কে বাসার অদূরে রাস্তায় তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। নাজমুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে তার চোখে এবং কপালের মাঝামাঝি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, নাজমুল ইসলাম মঙ্গলবার রাত ১০টায় বাসা থেকে বের হন। ভোর ৫টার দিকে জ্যামাইকা হাসপাতাল থেকে ফোন করে পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরিবারের সদস্যদের পুলিশ জানিয়েছে, ওজোনপার্কের আটলান্টিক এভিনিউ এবং ৭৬ স্ট্রিটের কর্ণারে নাজমুল ইসলামের লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দুই ব্লক দূরে ছিল তার বাসা। ঘটনাস্থলের কাছে জনৈক প্রতিবেশী ঘরের জানালা খুললে নাজমুল ইসলামকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ও জরুরি মেডিকেল সার্ভিসেস কর্মীরা এসে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিত্সকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিত্সকের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ পরিবারকে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, নাজমুল ইসলাম হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে এর সত্যতা কেউ নিশ্চিত করেনি। হাসপাতালের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে নাজমুল ইসলামের বাম চোখ ও কপালে জখম থাকায় তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি ইত্তেফাককে জানান, রাত আড়াইটার দিকে নাজমুল ইসলাম জরুরি পরিসেবার জন্য তার মোবাইল থেকে ৯১১ নম্বরে কল করেছিলেন। তার কাছে থাকা মোবাইলের কললিস্ট থেকেই পুলিশ এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে অসুস্থতা নাকি অপরাধজনিত কারণে তিনি ৯১১ নম্বরে কল করেছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জরুরি ৯১১ ছাড়াও ডায়াল লিস্টে আরো একটি ফোন নম্বর পেয়েছেন, যে নম্বরে নাজমুল ইসলাম মারা যাওয়ার আগে কল করেছিলেন। পুলিশ পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নম্বরটি তার একজন নিকট প্রতিবেশীর। ওই প্রতিবেশী পরে হাসপাতালে গিয়ে নাজমুল ইসলামের লাশ সনাক্ত করেন।
পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রটি আশঙ্কা করছেন, নাজমুল ইসলাম দুর্বৃত্ত কর্তৃক হামলার শিকার হতে পারেন। কারণ ওজোনপার্ক অপরাধপ্রবণ এলাকা এর আগে ২০০২ সালে ঢাকার দৈনিক ইনকিলাবের ফটো সাংবাদিক মিজানুর রহমান ওজোনপার্ক এলাকায় নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন। মিজানুর ররহমান নামে ওজোনপার্ক এলাকায় একটি রাস্তার নামকরণ করেছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ।
নাজমুল ইসলাম এক পুত্র ও এক কন্যা এবং মাকে নিয়ে ওজোনপার্কের বাসায় থাকতেন। স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কোচ্ছেদ হয়ে ছিল। বাংলাদেশে নাজমুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চন্দ্র গ্রামে। তিনি বিয়ানীবাজারের প্রয়াত তফাজ্জল ইসলামের ছেলে। নাজমুল ইসলামের তিন ভাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। একমাত্র বোন থাকেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। স্থানীয় সময় শুক্রবার জুমার নামাজের পর ওজোনপার্কের আল-আমীন মসজিদে তবে নামাজে জানাজা হতে পারে। এরপর তার মরদেহ নিউইয়র্কের মুসলিম কবরস্থানে দাফন করার কথা।
নাজমুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন এক শোক বৃিবতিতে নাজমুল ইসলামের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
