উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গতকাল ভারতে মোদী সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলী। এবারের বাজেটে ব্যাংকগুলোকে আরো শক্তিশালী করা, নতুন শিল্পো উদ্যোক্তাদের জন্য ১ হাজার কোটি রুপির মূলধনী ফান্ড, মূলধন বাড়াতে বাজারে বিভিন্ন ব্যাংকের শেয়ারের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সেইসাথে এবার প্রত্যক্ষ করের হারে পরিবর্তন করা হয়নি। বিগত কয়েক বছর ধরে ভারতের প্রবৃদ্ধি নিম্নগতি লক্ষ্য করা গেছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৭ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদী সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার শ্লোগান নিয়েই নিরঙ্কুশ ভাবে ক্ষমতা লাভ করেন। এবারের বাজেটও হবে প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলী বলেছেন, বিগত দুই বছর ধরে অর্থনীতির নিম্নগতি ভারতের জনগণকে ‘ক্রুদ্ধ’ করেছে। প্রতিবছর যে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে তাকে আরো সুনির্দিষ্ট করে ব্যয় করা হবে জানান তিনি। সেই সাথে আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। এবারের বাজেটে ভারতের প্রতিরক্ষা এবং ইন্স্যুরেন্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের সীমা ২৬ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এবারের বাজেটে ৬০টি নতুন আয়কর সেবা কেন্দ্র তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ দশমিক ২৯ লাখ কোটি রুপি। বাজেট বরাদ্দের বাইরে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে ৫ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ রয়েছে। নতুন বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২.৫ লাখ রুপি এবং প্রবীণদের জন্য ৩ লাখ রুপি করা হয়েছে। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪ লাখ কোটি রুপির কর বিভিন্ন মামলায় আটকে রয়েছে, এর জন্য আইন পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। ভূমিহীন চাষিদের জমি কেনার জন্য বরাদ্দ থাকছে ১০০ কোটি রুপি। কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে বিভিন্ন প্রকল্পের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবার ১২টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ গড়া হবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ঋণের ব্যবস্থা ছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকছে একশো কোটি রুপি। মফস্বল শহরগুলোতে এবং গ্রামীণ এলাকায় ভারী শিল্প গড়ে তোলা হবে। প্রতিবছর ৮৫০০ কিলোমিটার নতুন সড়ক তৈরি করা হবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সুগম করতে রেলপথ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার কোটি রুপি। এছাড়া লক্ষৌ এবং আমদাবাদ শহরে মেট্রো রেল চালু করা হবে। ২০২২-এ সবার জন্য গৃহ প্রকল্পের জন্য গৃহঋণে ২ লাখ রুপি পর্যন্ত সুদে ছাড় দেয়া হবে। আগামী অর্থবছরের বাজেটগুলোতে ভর্তুকি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোদী সরকার চলতি অর্থবছরে ভর্তুকির আকার জিডিপি’র ৪.১ শতাংশে বেঁধে রাখতে চাইছে। যা পরের বছরগুলোতে যথাক্রমে ৩.৬ ও ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
এবারের বাজেটে উল্লেখযোগ্য অন্যান্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে, যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ প্রকল্প, বিশ্ববাজারে আইটি পণ্য রফতানির ব্যবস্থা, পুনেতে ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর কেন্দ্র তৈরির জন্য ১০০ কোটি রুপি বরাদ্দ, বস্ত্র উত্পাদনের জন্য মহীশূর, সুরাত, গুজরাটকে বিশেষ গুরুত্বারোপ, আর্থিক প্রতারণা রুখতে চিটফান্ড আইন পরিবর্তন, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের সমীক্ষার কাজে বরাদ্দ ১০০ কোটি, হিমালয় নিয়ে গবেষণার জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি, দৃষ্টিহীনদের উপর বিশেষ নজর এবং বড় শহরগুলোতে নারী নিরাপত্তায় ১০০ কোটি রুপি বরাদ্দ।
