গাজায় ইসরাইলের বেপরোয়া হামলা চলছেই। তৃতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে বিমান হামলায় ২২ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচ ফিলিস্তিনি শিশুও রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র একথা জানায়। অধিকাংশ নিহতের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস নগরীতে।
আন্তঃসীমান্ত রকেট হামলা বন্ধে মঙ্গলবার ভোরে শুরু করা ইসরাইলের প্রটেক্টিভ এজ অপারেশনে এ নিয়ে মোট ৭৩ জন গাজাবাসী নিহত হলেন। জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় বাইত লাহিয়া শহরে ইসরাইলি মিসাইল হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর মাটির সাথে মিশে গেছে। এখানে এক শিশু নিহত হয়।
খান ইউনিসের একটি কফি শপে চালানো বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়। এখানে লোকজন বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার সেমিফাইনাল খেলা দেখছিল। হামলায় আটজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়। কুদরা জানান, পরে নগরীর অন্যস্থানে ইসরাইলের যুদ্ধবিমান দু’টি বাড়িতে হামলা চালালে চার নারী ও চার শিশু নিহত হয়। সকালে এক পৃথক হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়। সকাল হওয়ার পর পরই গাজার পশ্চিমাঞ্চলে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো মিসাইল হামলায় তিনজন নিহত হয়। এছাড়া একদিন আগে গাজার পূর্বাঞ্চলে এক হামলায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তি মারা গেছেন। মঙ্গলবার অভিযানের প্রথম দিনে ২১ জন নিহত হয়েছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা রাতের বেলা তিনশ’ টার্গেটে হামলা করেছে। ফলে মোট হামলার সংখ্যা ৭৫০-এ উন্নীত হয়েছে।
এদিকে বিবিসি জানায়, গাজা ভূখন্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহত ফিলিস্তিনিদের মেডিক্যাল সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিবেশি দেশ মিসর রাফায় তার সীমান্ত-দরোজা আবার খুলে দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন আহতদের নিয়ে আসার জন্য গাযায় ২০টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। মিসরে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের বেশিরভাগ সময়েই এই রাফা সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছিলো। গাজায় এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা ভুখণ্ডের ভেতরে ঢুকে স্থল অভিযান চালাতে পারে। মিসর সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, এরকম কিছু হলে সেটা বড়ধরনের বির্পযয় ডেকে আনবে।
জাতিসংঘরের মহাসচিব বান কি মুন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না হলে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেছেন, গাজা এখন ছুরির ডগায়। পরিস্থিতি যেভাবে অবনতি ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। মানুষ আরো একটা যুদ্ধ দেখতে চায় না।
