মোবাইল কোর্টের আইনের তফসিলে দণ্ডবিধির আরো ২৯টি ধারার অভিযোগ বিচারের ক্ষমতা পাচ্ছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এসব ধারার অভিযোগ বিচারের সুযোগ পেলে অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে ডিসিদের দাবি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে মোবাইল কোর্টের আওতা বাড়ানো হবে। তিনদিনের ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনাকালে ডিসিদের প্রস্তাবিত ধারাগুলো মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯-এর তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রী ইতিবাচক সম্মতি দিয়েছেন।
যে ২৯টি ধারা মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- দণ্ডবিধির ১৭৩, ১৭৫, ১৭৬, ১৭৭, ১৭৮, ১৭৯, ১৮০, ১৮১, ১৮২, ২৭৭, ২৭৮, ২৭৯, ২৮০, ২৮২, ২৮৩, ২৮৪, ২৮৫, ২৮৭, ৩২৩, ৩৭৪, ৩৭৯, ৩৮০, ৪১৭, ৪১৯, ৪২৭, ৪২৮, ৪৪৭ এবং ৪৪৮ ধারা। এসব ধারার অভিযোগগুলো হচ্ছে- সমন জারির পর হাজির না হবার শাস্তি, তথ্য-প্রমাণ বা দলিল পেশ করতে অস্বীকৃতি জানানোর অপরাধ, নোটিস প্রাপ্তি বা কোন সংবাদ জানার পরও গোপন করা, মিথ্যা তথ্য পরিবেশন, শপথ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো, কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করা, কোন দলিল বা বিবৃতিতে সই করতে অস্বীকার করা, শপথের পর মিথ্যা বিবৃতি প্রচার, মিথ্যা জেনেও সত্য প্রকাশ না করা, জনসাধারণের ব্যবহার্য জিনিসের ক্ষতিসাধন, যে কোন ধরনের দূষণ, সড়কে বেপরোয়া যানবাহন চালানো, নৌ বেপরোয়া যানবাহন চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা, যানচলাচলে বাধা, বিষাক্ত কোন বস্তু নিয়ে অবহেলা করা, আগুন নিয়ে খেলা, যন্ত্রপাতি নিয়ে খেলা, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, বে-আইনী শ্রমে বাধ্য করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চুরি, প্রতারণা, ছ"ঞ্চবেশ ধারণ, ৫০ টাকার ওপর মূল্যের কোন বস্তুর ক্ষতিসাধন, ১০ টাকা মূল্যের প্রাণী হত্যা, অনধিকার প্রবেশ ও গৃহে অনধিকার প্রবেশ।
আইন মন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী ছেলে-মেয়ের সঙ্গে বাংলাদেশিদের বিয়ে নিবন্ন ঠেকাতে ডিসিদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, বৈধভাবে বাংলাদেশে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী থাকলেও অবৈধভাবে আসা এ সংখ্যা আড়াই লাখ বলে ডিসিদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে।
গতকাল সম্মেলনের শেষদিনে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, তথ্যমন্ত্রণালয়ের ওপরও ডিসিদের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়: কাজের গতি বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে কর্মরত বিভাগীয় কমিশনারদের পদ জাতীয় বেতন সেড়ল গ্রেড-১-এর কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে ডিসিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মহাপরিচালক (ডিজি) পদগুলো আপগ্রেড করে গ্রেড-১ করা হয়েছে। কাজের গতি বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে কর্মরত বিভাগীয় কমিশনারদের পদের মান উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জনপ্রশাসন সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসকদের বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- জেলা প্রশাসনের মধ্যে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা।
তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে সহায়তা চান ডিসিরা: তথ্য অধিকার আইন কার্যকর, গতিশীল ও বাস্তবমুখী করতেও সহযোগিতা চেয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের ক্ষমতা ডিসিদের হাতে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে ডিসিদের সঙ্গে কোন আলোচনা হয়নি বলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানান। তবে আগেই তথ্যমন্ত্রী জানান যে, এই ধরনের সম্ভাবনা নেই।
মন্ত্রী বলেন, "তথ্য অধিকার আইন কার্যকর, গতিশীল ও বাস্তবমুখী করতেও সহযোগিতা চেয়েছেন ডিসিরা। সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রেখে ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে জনপ্রশাসন কীভাবে জনগণের পাশে থেকে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করতে পারে- তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।"
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়: বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। জেলা প্রশাসক সম্মেলনের "্বিতীয় অধিবেশনে তিনি জেলা প্রশাসকদের এ নির্দেশ দেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, "স্থানীয়দের মধ্যে পর্যটক সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করা গেলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে।" মেনন বলেন, "জেলা প্রশাসকরা বরিশাল, সৈয়দপুর ও ঈশ্বরদী বিমান বন্দর চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এ জন্য দুইটি বিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া রয়েছে।" তিনি বলেন, "আগামী ১৬ জুলাই বেসরকারি বিমান অভ্যন্তরীণ রুটে যুক্ত হচ্ছে। এতে আমরা লাভবান হব।"
এসব মন্ত্রণালয় ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া এবং সংসড়ৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর ডিসিদের আনীত প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রণালয় ভিত্তিক আলোচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।
