সাগরে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৫
ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেছেন, সরকার সমুদ্র বিজয়ের যে কথা বলছে, তা সঠিক নয়। বাংলাদেশের ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা হাতছাড়া হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে ভারতের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের পক্ষে আনুষ্ঠানিক এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, রায় পক্ষে আনতে আদালতে বাংলাদেশ সরকারের তৎপরতা যথাযথ ছিল না। আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রতিনিধি না থাকায় সমুদ্রে বাংলাদেশ ন্যায্য সীমানা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দক্ষিণ তালপট্টি হাতছাড়া হয়েছে। ড. কামাল হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ ও সাবেক সচিব কেএস মোর্শেদের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা আদায় করা হয়েছে - সরকারের এই দাবির জবাবে হাফিজ বলেন, এই বক্তব্য সঠিক নয়। মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণেও তারা একইরকম কথা বলেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ওই সময়ে আমরা কয়েকটি গ্যাস-তেল ব্লক হারিয়েছি। দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের বিষয়ে তিনি বলেন, এই দ্বীপটি বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জিয়াউর রহমান এই দ্বীপের মালিকানার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই সময়ে ভারতও এই দ্বীপের দাবি জানিয়েছিল। এই নিয়ে দুই দেশের যুদ্ধ জাহাজও সেখানে গিয়েছিল। এই দ্বীপটির অধিকার ছেড়ে দেয়া উচিত হয়নি। তালপট্টি দ্বীপ বাংলাদেশের মানচিত্রে ছিল না - আদালতে বাংলাদেশের ডেপুটি এজেন্ট অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলমের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ তালপট্টি আছে, এটি ১৯৭৫ সালের ম্যাপই প্রমাণ করে। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এ সংক্রান্ত মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল। এখন ভারত পেয়েছে বলে সরকার বলছে, এর কোনো অস্তিত্ব নেই। খুরশেদ সাহেব ওই সময়ে নৌবাহিনীতে কাজ করতেন, তিনি নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে তালপট্টিতে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেখানে একটি লাইট হাউজও স্থাপন করা হয়েছিল। এখন তিনি ভিন্ন কথা বলছেন। সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আরো বলেন, ভারতের পক্ষে সেদেশের বিচারক পিএস রাও আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ আমাদের পক্ষে দেশের কোনো বিচারক নয়, ঘানার নাগরিক বিচারক টমাস মেনশাহ নিয়োগ পান। পিএস রাও ভারতের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি কয়েকটি নোট-অব ডিসেন্টও দিয়েছেন। আর বাংলাদেশের পক্ষের বিচারক কোনো নোট-অব ডিসেন্ট দেননি। ভারতের পক্ষে সে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নিলে বাংলাদেশের পক্ষে তা না হওয়ার কথাও বলেন সাবেক এই পানিসম্পদ মন্ত্রী। সমুদ্রসীমা রক্ষায় আগের সরকারগুলো উদাসীন ছিল - আওয়ামী লীগ নেতাদের এই অভিযোগের জবাবে হাফিজ বলেন, বিএনপি সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলাদা মেরিটাইম সেল, দক্ষ জনবল নিয়োগ, একটি আলাদা ভবনসহ বিশেষজ্ঞদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল। কেবল তাই নয়, সেসময় সমুদ্রে জাহাজ নিয়ে জরিপও চালানো হয়। রায়ের বিস্তারিত তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এই রায়ে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। আমরা কতটুকু পেয়েছি বলা হলেও ভারত কতটুকু পেল, তা সরকার বলছে না। অনেক কিছুই দেশবাসী জানছে না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক কূটনীতি প্রতিবেশি দেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সেজন্য রায়ের বিষয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাই। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক কূটনীতিক রিয়াজ রহমান ও ইনাম আহমেদ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।