সন্তানের দুষ্টুমি আর চঞ্চলতা নিয়ে একটু আধটু অভিযোগ প্রায় সব বাবা-মায়েরই থাকে। এমনকি কখনো কখনো সন্তানের মাত্রাতিরিক্ত দুষ্টুমি আর কথার অবাধ্য হওয়া নিয়ে ভীষণ রকমের দুশ্চিন্তাতেও ভুগতে থাকেন বাবা-মায়েরা। অন্যদিকে যাদের সন্তান তুলনামূলক শান্ত তারা যে শুধু নিজেরাই স্বস্তিতে থাকেন তা নয়, বরং তাদের সন্তানকে আদর্শ বলে মানেন অন্য দম্পতিরাও। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক শিশুদের এ ধরনের বাধ্যতা ও পরবর্তী জীবনে এর প্রভাব নিয়ে যে গবেষণা ফল প্রকাশ করেছে সেটি রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতোই। গবেষকদের দাবি, যেসব শিশু ছোটবেলায় শান্তশিষ্ট থাকে তারা বড় হয়ে যথোপযুক্ত কাজ খুঁজে পেতে এবং জীবনে সঠিকভাবে অগ্রসর হতে তুলনামূলক বেশি বাধার সম্মুখীন হয়। এমনকি কাজের অভাবে এদের মধ্যে নানা ধরনের মাদকের প্রতি আকর্ষণও গড়ে ওঠে। অন্যদিকে যেসব শিশু ছোটবেলা থেকে সবকিছুতে মা-বাবার বাধ্যগত সন্তান হয়ে থাকে না, তারাই বরং বড় হয়ে শান্ত সুবোধ বাচ্চাদের চাইতে তুলনামূলক বেশি সফলতা লাভ করে। মূলত ১৮৪ জন তরুণ-তরুণীর ওপর চালানো এক গবেষণা জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন গবেষকরা। এতে ঐ তরুণ-তরুণীদের বর্তমান অবস্থার সাথে তাদের শৈশবের আচরণের তুলনা করা হয় এবং দেখা যায় যেসব শিশু ছোটবেলায় অনেক যত্ন, প্রশংসা ও মনোযোগ পায় তারা এ ধরনের আচরণ দিনের পর দিন দেখতে দেখতে এক ধরনের অভ্যস্ততায় ভোগে ও এদের মধ্যে এক ধরনের পরনির্ভরশীলতা গড়ে ওঠে। এর ফলে শৈশব থেকে কৈশোর বা তারুণ্যে পা দেওয়ার সময়টিতে জীবনের অনেক কিছুর প্রতিই তারা কোনো রকম আকর্ষণ বোধ করে না। আর এই আকর্ষণহীণতা এবং নতুন কিছু করার চেষ্টা না করাটাই শৈশবে শান্তশিষ্টদের ভবিষ্যত সাফল্যের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
