খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা থেকে অপহূত ব্রিজ নির্মাণ কাজের চার শ্রমিককে চারদিনেও উদ্ধার করা যায়নি। তাদের ছাড়তে নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের নিকট স্থানীয় একটি পাহাড়ি সংগঠনের সন্ত্রাসীরা ১০ লক্ষ টাকার মুক্তিপণ দাবি করেছে।
অপহরণের ঘটনার পর থেকে মাটিরাঙ্গার ব্যাঙমারায় ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। এদিকে মোটা অংকের চাঁদা দাবিতে হুমকির মুখে খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম সড়কে একই ঠিকাদারের নির্মাণাধীন মানিকছড়ির কালাপানি ও গচ্ছাবিল ব্রিজের নির্মাণ কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে। রবিবার রাতে একদল উপজাতি ব্যাঙমারা ব্রিজ নির্মাণ কাজের চার শ্রমিক রাজু(২২), হাসান(২৪), ফারুক(২৫) ও লিয়াকতকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের ঘটনার পর থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিশেষ প্যাকেজ প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন ব্যাঙমারা ব্রিজের নির্মাণ কাজের ঠিকাদার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিন্টু চৌধুরী জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস’র সংস্কারপন্থী গ্রুপের সাথে তাদের দফারফা হয়।
সে মতে, গত শনিবার সংগঠনটির এরিয়া কমান্ডার বিশাল ত্রিপুরার কাছে চাঁদার সমুদয় টাকা হস্তান্তর করা হয়। এর একদিন পরই চার শ্রমিককে অপহরণ করা হয়। তিনি জানান, বিশাল ত্রিপুরাকে সংগঠনটি অন্যত্র বদলি করেছে। তার জায়গায় আরেকজনকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। নতুন যোগদানকারী এরিয়া কমান্ডার অপহূতদের মুক্তির জন্য আবার মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে। তিনি জানান, এভাবে বার বার চাঁদা দিতে হলে এখানে কাজ করা যাবে না। তিনি জানান, খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম সড়কের মানিকছড়ির কালাপানি ও গচ্ছাবিল এলাকায়ও তার দুটি ব্রিজের কাজ চলছিল। ঐ সন্ত্রাসীদের চাঁদার জন্য হুমকির মুখে তিনি এ ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন।
