সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বের বুকে পরিচয় করিয়ে দিতে যাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য, সেই সাকিবকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ক্রিকেট থেকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধারে লেখক, রাজনীতিবিদ, কলামিস্ট নোয়াম চমস্কি বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘রাজনীতি একটি দেশের অভ্যন্তরকে সুন্দর ও পরিশীলিত করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে দেশের অভ্যন্তর সে প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।’ ক্রিকেট রাজনীতির হাঁটি হাঁটি পা পা করে দীর্ঘ পথ মাড়িয়ে কিছুটা সফলতার দ্বারপ্রান্তে এসেছে। ঠিক সেই সময় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ক্যারিয়ার নষ্ট করা হলো। রাজনীতির খুঁটিটা এত বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে যে এক সাংসদের ছেলের গায়ে হাত তোলা নিয়ে যে বিচার পাওয়ার কথা ছিল না সেটাই করে দেখানো হলো। রাজনীতির বলির পাঁঠা এখন সেই সাকিব আল হাসান। তাহলে কি তাঁকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হলো? এ প্রশ্নের উত্তর আজ দিতে কেউই ইচ্ছুক নন।
যাঁরা বিসিবিতে ক্ষমতার চেয়ারে বসে আছেন তাঁদের কেউই রাজনীতিমুক্ত নন। দেশে এক বছর ধরে কোনো প্রিমিয়ার লীগের দেখা মেলেনি। বিপিএল, বিসিএলের নামে টাকা আয়ের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খুলেও লাভ হয়নি কোনো ক্রিকেটারের। আজো পায়নি তাঁদের পাওনা টাকা।
আর এভাবেই ফুটবলের মতো ক্রিকেটকেও রাজনীতির একটি সুবিধাপূর্ণ মাঠ মনে হয়। তাহলে বিদায় ক্রিকেট, চিরবিদায়! সাকিবের প্রতি অবিচারের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের ছন্দপতন ঘটানো সম্পূর্ণ পরিকল্পিত কিনা সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি। বাংলাদেশকে ক্রিকেটাঙ্গনে সুনামের আসনে বসিয়েছে এই দেশসেরা অলরাউন্ডার। রাজনীতি নয় ক্রিকেটকে ক্রিকেটের গতিতেই চলতে দেওয়াই কাম্য।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
