কাপ্তাই জেটিঘাটের রমরমা ব্যবসা এখন আর নেই। কয়েক বছর আগেও কাপ্তাই জেটিঘাট ছিল একটি বড় ব্যবসা কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক সমাগম হতো এখানে।
কাপ্তাই লেকের পানিতে ভাসিয়ে দূর থেকে লাখ লাখ বাঁশ এসে জমা হতো জেটিঘাটে। সেখান থেকে ট্রাকে বাঁশ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হতো। জেটিঘাটের সেই রমরমা অবস্থা হারিয়ে গেছে।
এখন জেটিঘাটকে দেখলে একটি মরা অনেকটা জনমানবহীন জনপদ বলে মনে হবে। তবে প্রতি শনিবার এখানে হাট বসে। ঐ হাটের দিন জেটিঘাটে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। সেদিন বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক পাহাড়ি নারী-পুরুষ এখানে বিভিন্ন রকমের মালামাল বিকিকিনি করতে আসেন। তবে সেই ব্যবসা চলে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এরপর আবার জেটিঘাট মরা বাজারে পরিণত হয়। স্থানীয়রা জানান, ৫/৬ বছর আগেও জেটিঘাট থেকে বাঁশ বোঝাই দৈনিক দুই শতাধিক ট্রাক দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করতো। এখন ১০টি ট্রাকও চলাচল করে না। এক সময় জেটিঘাটে ৮ থেকে ১০টি চায়ের দোকান ছিল। এখন মাত্র ২টি দোকান কোনোমতে টিকে আছে।
কাপ্তাইয়ে এক সময় ৫০টিরও বেশি ফার্নিসার তৈরির দোকান ছিল। এখন একটিও নেই। জেটিঘাট বোট চালক সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, ৬ বছর আগেও প্রতিদিন কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক ইঞ্জিন বোট চলাচল করতো।
এখন দৈনিক ১০টি বোটও ঠিকমত চলাচল করে না। রমরমা জেটিঘাটের এই হাল হলো কেন জানতে চাইলে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বাঁশের কারবারের জন্যই জেটিঘাট চাঙ্গা ছিল। সেই সাথে জমজমাট কাঠের ব্যবসাও ছিল। এই দুইটি পণ্য আহরণ ও পরিবহনকে ঘিরে কাপ্তাই জেটিঘাট ছিল কর্মমুখর। এর সাথে ছিল মত্স্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের তত্পরতা। বাঁশের প্রাপ্তি বন্ধ হবার সাথে সাথে জেটিঘাটের কর্মচাঞ্চল্য থমকে পড়ে।
