চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে তেলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বিপুল পরিমাণ ফার্নেস অয়েল আশেপাশের ফসলি জমি ও খালে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত এই তেল অপসারণের ব্যবস্থা না হলে আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এর ফলে ফসলি জমির উর্বরতা হ্রাস, জলাশয়ে মত্স্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ ব্যাপক পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ফার্নেস অয়েল ফসলি জমির গুণাগুণকে নষ্ট করবে। এতে জমির উর্বরতা হ্রাসের পাশাপাশি খালের পানিতে জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হবে। খালটি বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে যুক্ত হওয়ার কারণে ফার্নেস অয়েল সাগরেও ছড়িয়ে পড়বে। এ কারণে সাগরের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উপকূলের জনজীবনেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বলে তারা মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকাল ৭টায় সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে ফার্নেস অয়েল বহনকারী ৫টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এতে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল পার্শ্ববর্তী জলিলনগর খাল ও ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। এসব তেল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দোহাজারি পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্যাংকারগুলোর প্রতিটিতে ২৬ হাজার ৮০০ লিটার করে তেল ছিল। দুর্ঘটনায় তিনটি ট্যাংকার থেকে পুরোটাই বের হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য দু’টি ট্যাঙ্কার থেকেও কিছু পরিমাণ তেল বের হয়েছে। এ সময় জমি ও খালে তেলের আস্তরণ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের বিভিন্ন উপায়ে ভাসমান তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক জাফর আলম ইত্তেফাককে বলেন, ঘটনার পরপর এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল কিনা এবং পরিবেশ বিপর্যয় খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ফার্নেস অয়েলের টক্সিক খালের পানিতে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে জীববৈচিত্র্য নষ্ট করবে। ফসলি জমির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব পড়বে। উর্বরতা হ্রাস পাওয়ায় কোনো ফসল হবে না। উর্বরতা ফিরে আসতে সময় লাগবে।
তিনি বলেন, ফার্নেস অয়েল কতটুকু ছড়িয়েছে তার ওপরই মূলত প্রভাবটা নির্ভরশীল। পরিমাণ বেশি হলে ফার্নেস অয়েল খাল হয়ে সাগরের পানিতে লেয়ার সৃষ্টি করবে। এতে ওই এলাকার ক্ষুদ্র জীববৈচিত্র্য নষ্ট হবে। কমপক্ষে মাস ছয়েক খালে কোনো জলজ প্রাণীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের ৩০ জুলাই চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু সংলগ্ন বোয়ালখালী উপজেলা অংশে তেলবাহী একটি ওয়াগন দুর্ঘটনা কবলিত হয়। ওই ওয়াগনটিতেও দোহাজারি পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। দুর্ঘটনায় তিনটি ওয়াগনের ৫৮ হাজার ৯৮২ লিটার তেল খালের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ে। এই তেলে কর্ণফুলী নদী ও আশপাশের খালের জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় বলে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান।
