ভারতীয় পোশাকে ছেয়ে গেছে রাজশাহীর ঈদ বাজার

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৯
ভারতীয় শাড়ি আর রকমারী পোশাকে ছেয়ে গেছে রাজশাহীর ঈদের বাজার। তবুও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী জামদানী, সিল্ক ও বালু চুরির মত হরেক রকমের শাড়ি। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ক্রেতাদের সিংহভাগই নারী। বিভিন্ন বয়সী নারীদের পদচারণায় মুখরিত রাজশাহীর ঈদের বাজার। নিজেদের পছন্দের জিনিসটি কিনতে চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল। আর তাদের চাহিদা পূরণ করতে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে বিভিন্ন আয়োজন করেছে বিক্রেতারা। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা । নগরীর নিউমার্কেট, আরডিএ মার্কেট ও উপশহর নিউমার্কেট ও বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ দোকানগুলোতে ভারতীয় পোশাকের উপস্থিতি। গতবারের তুলনায় এবার প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় শাড়ি বাজারে এলেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অধিকাংশ ক্রেতা। দেশীয় শাড়ির দোকানে ভিড় করছেন তারা। গতবারের তুলনায় এবার শাড়ির দাম অনেক বেশি। প্রতি পিস সূতি শাড়িতে দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩শ’ টাকা। আবার সিল্ক শাড়িতে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা এবং জামদানী শাড়িতে বেড়েছে ৪শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। তার পরও খুশি ক্রেতারা, প্রিয় মানুষটির জন্য ত্যাগস্বীকার করতেও দ্বিধাবোধ করছেন না তারা। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন ডিজাইন আর দামের শাড়ি বাজারে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বালু চুরি, হ্যান্ডি ব্লক, টাংগাইল, জুট কাতান, সূতি, হাফ সিল্ক ও জামদানী সিল্ক, মুসলিন এমব্রয়ডারি, মুসলিন শিপন, এনডি, বলাকা, জামদানী, ধুপিয়ান, র-কাতান, জয়শ্রী, স্বর্ণ কাতান, মুসলিন ব্রাশো, ঝলক কাতান। এবারের ঈদে নতুন মোড়কে বাজারে এসেছে জুট কাতান। আর ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে জামদানী, সূতি, টাংগাইল, মসলিন বা র-সিল্কের ওপর কাটোয়ার, এম্ব্রয়ডারি ও এন্ডির মিশ্রণে হাতে বোনা সিল্ক শাড়ি। ক্রেতারা গরমের কারণে এবার সূতি শাড়িকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, অনেকে পছন্দ করছেন টাঙ্গাইল শাড়ি। এবারের ঈদ বাজারে প্রতি পিস টাঙ্গাইল শাড়ির দাম রাখা হচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে দেড় হাজার টাকা, হ্যান্ড ব্লক ৭শ’ টাকা, বালু চুরি দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার এবং জামদানী ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, বিশাল ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা, জর্জেট ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা, সূতি সিল্ক ও দোতরী সিল্ক- ৭ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, বুটিক ও টাঙ্গাইল শাড়ি দেড় হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া এন্ডি সিল্কের ওপর স্ট্রাইপ ও নক্সা করা নতুন ডিজাইনের শাড়ি চার হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, ধুপিয়ান ও বলাকা সিল্কের শাড়িগুলো সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এবারের ঈদে জামদানী শাড়ি তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। নগরীর সাহেব বাজার কাপড় পট্টির শাড়ি বিক্রেতা খোকন বলেন, এবারের ঈদে দেশি শাড়িই বেশি বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় শাড়ির বিক্রি অনেকটা কমেছে। ক্রেতাদের রুচির অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। এবারের ঈদে দেশি শাড়ির বিক্রি আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সপুরা সিল্কের সাইদুর রহমান জানান, এবার রোজার আগে থেকেই ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকার কারণে এবার সর্বোচ্চ ব্যবসার আশা করছেন তিনি। কিন্তু ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের নামে, বিভিন্ন চরিত্রের নামে মেয়েদের পোশাক পাখি, ইষ্টিকুটুম, বাহা, ফ্লোর টাচ, ক্যাটরিনা, দীপিকা, লুঙ্গি ড্যান্স এর দাপটে হার মানছে দেশীয় পোশাক। এছাড়া রয়েছে গেল বারের ঝিলিক, আওয়ারা, হালুয়া প্রভৃতিও।