শিবপুরের লটকন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৪, ২২:২৭
নরসিংদীর শিবপুরে লটকন চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে অনেক চাষি। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উপজেলার মানুষ-জনের মধ্যে লটকন চাষে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিবছরই বাড়ছে বাগান। ফলনও হচ্ছে প্রচুর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন শত শত মণ লটকন সরবরাহ হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। এখানকার লটকন মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জয়নগর, বঘাব ও যোশর ইউনিয়নসহ সবকটি ইউনিয়নে প্রায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে ২ হাজার ৯৫৫টি লটকন বাগান রয়েছে। ১০-১৫ বছর আগেও লটকনের তেমন চাহিদা ছিল না। দামও ছিল কম। সে জন্য কেউ লটকনের স্বতন্ত্র বাগান করার চিন্তা করত না। বর্তমানে টক মিষ্টি সুস্বাদু এ ফলের চাহিদা ও দাম দুটিই বেড়েছে। এমনকি অন্যান্য ফল চাষের তুলনায় লটকন চাষ অনেক বেশি সহজ এবং ফলনও বেশি হওয়ায় চাষিরা বেশি লাভবান হচ্ছে। লটকন গাছের কাণ্ডে ফলে। গাছের পুষ্টির সুষমতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গাছের গোড়া থেকে প্রধান কাণ্ডগুলোতে এত বেশি ফল আসে যে, একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। তখন গাছের কাণ্ড বা ডাল দেখা যায় না। মানভেদে লটকন মণ প্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়ে থাকে। পাইকাররা নিজেরাই বাগান থেকে লটকন ক্রয় করে থাকেন। উপজেলার আজকিতলা গ্রামের লটকন চাষি লোকমান হোসেন বলেন, আমি ২৫ বিঘা জমিতে লটকন বাগান করে স্বাবলম্বী হয়েছি। এ মৌসুমেও অন্তত ২৫ লক্ষ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। একই গ্রামের লটকন চাষি মনরুউদ্দিনও ৬ বিঘা জমিতে লটকন চাষ করে অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হানিফ সিকদার বলেন, লটকন চাষে পরিশ্রম ও খরচ দুটোই কম। তাই উপজেলার লটকন চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। ফলে দিন দিন এই উপজেলায় লটকনের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।