সাপের বিষের চিকিত্সা গ্রামে নেই কেন?

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ২১:৫৯

এক শ জন লোককে সাপে কামড়ালে বড়জোর দু-তিন জনের ক্ষেত্রে সেটা বিষাক্ত হতে পারে। কিন্তু সেই দু-তিন জন কারা, সেটা আগে থেকে বলা অসম্ভব! আক্রমণকারী সাপটিকে সঙ্গে আনা গেলে ক্ষেত্রবিশেষে কিছুটা অগ্রিম ধারণা করা যায়। কেননা বিষধর সাপের আলাদা দৈহিক বৈশিষ্ট্য থাকে। যেসব ক্ষেত্রে সাপের কামড়ে বিষ থাকে, সেসব ক্ষেত্রে যে কোনো সময় রোগীর শরীর অবশ হয়ে শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে পারে। আর এমনটা হলে দ্রুত রোগীকে আইসিইউতে নিয়ে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। একটা নির্দিষ্ট সময় এভাবে চালানোর পর রোগীর ভাগ্য ভালো থাকলে রোগী বেঁচে যায়। তাছাড়া সাপের বিষের জন্য যে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়, সেটা যে কোনো সময় যে কোনো রোগীর ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া (anaphylactic shock) সৃষ্টি করতে পারে! আর তা হলে সেটার চিকিত্সার জন্যও রোগীকে আইসিইউতে নেওয়া লাগতে পারে! তাহলে দেখা যাচ্ছে, কোন রোগীকে বিষাক্ত সাপে কামড়েছে আর কোন রোগীকে বিষাক্ত সাপ নয়, আবার বিষাক্ত সাপ কামড়ে থাকলে সেই রোগীকে সাপের বিষের কারণে বা বিষের চিকিত্সার জন্য ব্যবহূত ইনজেকশনের সম্ভাব্য মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার কারণে আবার আইসিইউতে নেওয়া লাগে কি না ইত্যাদি অনিশ্চয়তার কারণে রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে না রেখে সরাসরি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে সাপের বিষের চূড়ান্ত চিকিত্সার ব্যবস্থা না থাকাটা একটা অনিবার্য বাস্তবতা! চিকিত্সক আর চিকিত্সাব্যবস্থা দুটি ভিন্ন জিনিস। যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এজন্য চিকিত্সকদের দায়ী করে তাঁদের প্রতি অপমানজনক বাক্য ছুড়ে না দিয়ে বরং সরকারের কাছে দাবি তুলুন, যেন উপজেলা হাসপাতালে সাপের বিষের চিকিত্সার চূড়ান্ত ব্যবস্থা করা হয়। যা হোক, কাউকে সাপে কামড়ালে কাল বিলম্ব না করে দ্রুত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পায়ে কামড়ালে হাঁটুর ওপর এবং হাতে কামড়ালে কনুইয়ের ওপর কাপড়ের টুকরা দিয়ে হালকা করে বেঁধে নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে মৃত সাপটির পা থেকে মাথা পর্যন্ত বিভিন্ন দিকের একাধিক ছবি তুলে নিলে চিকিত্সা কার্যক্রমের জন্য ভালো হবে।

মো. মাকসুদ উল্যাহ

চিকিত্সক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা