রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জাকির হোসেন ওরফে কাঙালি জাকির নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে খিদমাহ হাসপাতালের পাশে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, ছিনতাই চেষ্টার সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে এই বন্দুকযুদ্ধ হয়। ৪০ বছর বয়সী জাকির মতিঝিলে সার্জেন্ট আহাদ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব) উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম মাতুব্বর সাংবাদিকদের বলেন, ডিবি পুলিশের একটি দল খিলগাঁও এলাকায় টহল দিচ্ছিল। ওই সময় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে এক ব্যক্তি চিত্কার করতে থাকেন। ডিবি পুলিশের দলটি ওই এলাকায় যায়। পুলিশের উপস্থিতি দেখে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে দুই ছিনতাইকারী পালিয়ে গেলেও একজন খিদমাহ হাসপাতালের পাশে মাঠের দিকে দৌড়ে গিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া অব্যাহত রাখে। ডিবি পুলিশের দলটিও পাল্টা গুলি চালায়। পরে মাঠ থেকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, ওই ঘটনায় পুলিশের কেউ গুলিবিদ্ধ না হলেও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য কিছুটা আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তির নাম কাঙালি জাকির। সে মতিঝিলে সার্জেন্ট আহাদ হত্যা মামলার আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মতিঝিলসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র আইন ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্ত্রী নীপা আক্তার। তিনি বলেন, তার স্বামী সার্জেন্ট আহাদ হত্যা মামলার আসামি হলেও জামিনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে স্বীকার করে নিপা বলেন, সব মামলাতে তার স্বামী জামিনে ছিলেন। তিনি খারাপ পথ থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন। এজন্য গত বছর খানেক ধরে সে মাতুয়ালের বাসা থেকে খুব বেশি বের হতেন না।
জাকিরের স্ত্রী জানান, তার স্বামী সার্জেন্ট আহাদ হত্যা মামলার নয় নম্বর আসামি ছিলেন। ওই মামলায় তিনি নয় বছর জেল খেটে বের হন। ২০১০ সালে ডিবি পুলিশ তাকে পল্টন থানা এলাকা থেকে অস্ত্রসহ আটক করে। ওই ঘটনায় পল্টন থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। নিপা বলেন, তার স্বামী একটি অস্ত্র মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে গত দেড় বছর আগে জামিনে বের হন। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনো সন্ধান মিলছিল না। পরে তিনি জানতে পারেন, বৃহস্পতিবার সকালে কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ জাকিরকে ধরে নিয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে টেলিভিশনের খবর দেখে জানতে পারেন তার স্বামী পুলিশের গুলিতে মারা গেছে।
পুলিশ জানায়, ১৯৯৯ সালে মতিঝিলের বলাকা চত্বরে ছিনতাই করে টেম্পোতে পালাচ্ছিলেন কাঙালি জাকির ও তার দলের সদস্যরা। ওই সময় সার্জেন্ট আহাদ ধাওয়া করে ওই টেম্পোতে উঠে পড়েন। এক পর্যায়ে জাকিরসহ অপর ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ওই ঘটনার পর কাঙালি জাকিরসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাঙালি জাকির। এছাড়া তালেব হোসেন রানা ও কানা জাকিরও আসামি। এরা তখন বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল।
পুলিশ জানায়, সার্জেন্ট আহাদ হত্যা মামলায় কাঙালি জাকিরের যাবজ্জীবন সাজা হলেও সে ২০১০ সালে কৌশলে জামিনে বের হয়ে আসে। ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর গুলিস্তান এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কাঙালি জাকিরকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। ওই সময় জাকিরের স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছিল, সে মনডিয়াল মানি এক্সচেঞ্জের ডাকাতি এবং মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত। ওই মামলায় গত বছরের শেষের দিকে সে কারাগার থেকে বেরিয়ে আবারও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।
