ব্রাজিলীয়ান সুপারস্টার নেইমার চান আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির হাতে শোভা পাক ২০১৪ বিশ্বকাপের শিরোপা। দলের অনুশীলন কেন্দ্র টেরেসাপোলিসে তিনি আবেগঘন এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিপ্রায় জানান।
নেইমার সেখানে কথা বলার সময় এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বিশেষ করে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলাটিতে ডিফেন্ডার ক্যামিলো জুনিগার ট্যাকলের সময় তার পিঠে আঘাত পাওয়ার ঘটনাটি বলতে গিয়ে। তবে পরিস্থিতি সামলে তিনি আসন্ন ফাইনাল প্রসঙ্গে বলেন, তিনি চান বার্সেলোনা সতীর্থ মেসি আগামিকাল রবিবারের ফাইনালটিতে যেন শিরোপার স্পর্শ পান।
এ প্রসঙ্গে ব্রাজিলের তারকা স্ট্রাইকারটি বলেন,‘খেলাটিতে মেসির ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তিনি অনেক ট্রফি জিতেছেন এবং আমি তাকে উত্সাহ দিব। তিনি একজন বন্ধু, আমার দলসঙ্গী। আমি তাকে শুভকামনা জানাই।’
তিনি অবশ্য জার্মানিকেও শুভেচ্ছা জানান। তবে নিজের দুই বার্সেলোনা সঙ্গী মেসি ও জেভিয়ের ম্যাশেরানোর কারণে তিনি চান তারাই জিতুক বিশ্বকাপটি।
এদিকে ইনজুরি থেকে ক্রমশ সেরে ওঠা ব্রাজিল স্ট্রাইকারটি বৃহস্পতিবার সাও পাওলো থেকে টেরেসপোলিসের গ্রাঞ্জা কোমারিতে ব্রাজিলের বেস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। দলের অন্যান্য ফুটবলাররা দারুণ খুশি তাকে পেয়ে। নেইমার সেই চির চেনা চেহারায়। পরনে কালো জিন্স, টিশার্ট আর মাথায় ক্যাপ। তাকে পেয়ে দারুন খুশি তার দল।
ব্রাসিলীয়ায় ব্রাজিলের তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচ নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে। দলকে উজ্জীবিত করতে নেইমার সেখানে যাবেন। মাঠে থাকবেন। শেষটা ভালো হোক সেটাই চান নেইমার।
জার্মানির বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ৭-১ গোলের ফুটবল বিপর্যয়ের পর মুষড়ে আছেন ব্রাজিলের ফুটবলাররা। তাদের সান্তুনা দিতেই ক্যাম্পে গিয়ে কথা বলেছেন নেইমার। আবার আগের মতো করে সবার সাথে মিশেছেন। হাসি আনন্দ করেছেন। খেলোয়াড়দের ভেঙ্গে না পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মাথা নত না করার পরামর্শ দিয়েছেন। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পিঠে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়ে যান নেইমার। সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি। ব্রাজিল জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। ৪৫ দিন বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে নেইমারকে।
নেইমার হাঁটছেন। সবার সাথে কথা বলছেন। এতো দিন তিনি ছিলেন বাড়িতে। বিশ্রামে। কিন্তু সংবাদ মাধ্য,রে সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি তাকে। ব্রাজিল ফুটবল সংস্থা নেইমারকে নিয়ে ফুটবলারদের ক্য্যাম্পে গিয়েছিলেন। সেখানে সংবাদ সম্মলনে কথা বলেন নেইমার। সব কিছু ভুলে গিয়ে সেরে উঠতে চান তিনি। যে ঘটনায় তার ফুটবল জীবেন এমন বিপর্য় নেমে এসেছে সেটা মন রাখতে চান না তিনি,‘সৃষ্টি কর্তা আমাকে রক্ষা করেছেন। পিঠের আঘাতটা যদি আরেকটু গভীরে প্রবেশ করতো তাহলে আমাকে হুইল চেয়ার নিয়ে চলতে হতো’। নিজের আঘাতের কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। বলছিলেন আমি সামনের দিকে তাকাচ্ছিলাম খেলার জন্য। বলের জন্য। আমি আমাকে সামনের দিকে রক্ষা করতে পারি। কিন্তু পেছন থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব না। পেছন থেকে রক্ষা করবে ফুটবল আইন।
নেইমার জানিয়েছেন জুনিগা তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নেইমারও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কলম্বািয়ান ফুটবলার জুনিগা সে ঘটনার পরদিন কথা বলেছেন নেইমারের সথে। জুনিগা নেইমারকে বলেছেন,‘আমি ইচ্ছা করে আঘাত করিনি। ব্যথা দেয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। আমি খেলার মধ্যে ছিলাম। আমার উপর রাগ করো না বন্ধু।’
জার্মানির কাছে বিপর্যয়ের পর মানসিক ভাবে ভালো নেই ব্রাজিলীয়ান ফুটবলারা। এখন ভেঙ্গে না পড়ার জন্য অনুরোধ করেছেন নেইমার। ৭-১ গোলে জার্মানির কাছে লজ্জার হারের ম্যাচে খেলেননি নেইমার। তার কোনো দায়িত্ব নেই। নেইমার তারপরও বলেছেন, ‘আমরা বলতে লজ্জা নেই আমিও এই হারের অংশ। আমি নিজেকে ম্যাচের বাইরের মনে করি না।’
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী
ব্রাজিল-নেদারল্যান্ড
রাত :২টা
