দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে মহিলাসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এসময় প্রতিপক্ষের হাতে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
মহম্মদপুরে পৃথক সংঘর্ষে
বাড়িঘর ভাংচুর, লুট
মাগুরার মহম্মদপুরে পৃথক দুটি সংঘর্ষে নারীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ৪/৫টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর ৩০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের বিল্লাল হোসেন ও সাঈদ কাজীর মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধের জের ধরে শনিবার সকালে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে আবু সাঈদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে একই দিন সকালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার নিখড়হাটা গ্রামে আপন সহোদর শরীফ শেখ ও নিজাম শেখের সমর্থকদের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ ব্যক্তি আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর মুকুল, মশিয়ার, শুকুর, নজরুল, কদম, মছিয়ার, মাসুদ, ইলিয়াছ, আবজাল, আক্কাস, আহাদ, কামরুল, আতিয়ার ও রেখাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তাড়াশে তারাবীর নামাজ পড়তে
গিয়ে ইমামসহ ১৫ জন আহত
জানা গেছে তাড়াশ উপজেলার ক্ষুদ্র মাধাইনগর গ্রামের লিয়াকত আলী একই গ্রামের আবু সাইদের নিকট ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করার চুক্তিতে ৪৮ হাজার টাকা নেয়। টাকা প্রদানের পর আবু সাইদ জানতে পারে উক্ত জমি ইতিপূর্বেই বিক্রেতার ভাবীর নামে দলিল হয়েছে এবং অন্য ভাইয়েরাও এর অংশীদার। অন্য দাগ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করে না দিলে আবু সাইদ টাকা ফেরত চায়।
শুক্রবার লিয়াকত তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন নিয়ে তারাবীর নামাজ পড়তে যায়। মসজিদে এক পর্যায়ে উক্ত জমি রেজিস্ট্রি করে নিতে লিয়াকত চাপ দেয় কিন্তু আবু সাঈদ অস্বীকার করলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ইমাম হাফেজ আব্দুল মজিদ মসজিদে গোলমাল করতে নিষেধ করলে ইমামসহ আবু সাঈদকে মারধর করা হয়। এসময় যারাই বাধা দিতে গেছে তাদের মারপিট করে মারাত্মক আহত করা হয়।
মধুখালীতে সংঘর্ষে
মহিলাসহ আহত ১০
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার চরগয়েশপুর গ্রামে মোল্লা ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে শুক্রবার রাতে সংঘর্ষে উভয়পক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। শনিবার সকালেও দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় হামলার খবর পাওয়া যায়।
আহতরা মাগুরা ও মধুখালী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। জানা গেছে, শুক্রবার বিকালে মোল্লা বাড়ির নাসিরুল ইসলাম টিটু মোটর সাইকেলযোগে বিশ্বাস বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাবার সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খোকন বিশ্বাসের নেতৃত্বে মনিরুল, খায়রুল, শিমুল, মামুন, সহিদুল, সাহেব আলী, এনামুল, তুহিন, শামিম, মোহাব্বত, মাশরুসহ আরো ২০/৩০ জন তাকে মারপিট করে ঘরে আটকিয়ে রাখে। খবর পেয়ে মোল্লা গ্রুপ টিটুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে রাতে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়।
