নরসিংদীতে রমজানে কাঁঠালের দরপতন

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৪, ২১:৫০
নরসিংদীতে চলতি মৌসুমে জাতীয় ফল কাঁঠালের বাম্পার ফলন হলেও রমজানের কারণে হাট-বাজারগুলোতে কাঁঠালের চাহিদা ব্যাপক হ্রাস পাওয়ায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। নরসিংদী জেলায় উত্পাদিত কাঁঠাল স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের চাহিদা পূরণ করে দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে বহির্বিশ্বেও রপ্তানি হচ্ছে। জেলার ৬টি উপজেলার সর্বত্রই কাঠাল কম-বেশি উত্পাদন হলেও শিবপুর, বেলাব, পলাশ, মনোহরদী ও রায়পুরা উপজেলার লালমাটি অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকার চাষিরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কাঁঠালের আবাদ করে আসছেন। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর নরসিংদী জেলায় মোট ২ হাজার ১৬ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়। তন্মধ্যে শিবপুর উপজেলায় সর্বাধিক ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা কাঁঠালের আবাদ করেছেন। এছাড়াও এ জেলার কৃষকরা বাগান সৃজনের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা, পুকুর পাড়, রাস্তার ধার ও পরিত্যক্ত ভূমিতে কাঁঠাল বৃক্ষ রোপণ করে কাঁঠাল চাষে ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছেন। বর্তমানে নরসিংদী জেলার হাটগুলোতে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল উঠছে। তবে রমজানের কারণে চাহিদা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। ফলে বাজারে কাঁঠালের জোগান থাকলেও ক্রেতার অভাবে দরপতন হয়েছে অস্বাভাবিক হারে। মাঝারি আকৃতির কাঁঠাল ৫০ টাকায় ও বড় কাঁঠাল ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ২০/৩০ টাকায়। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ হতে আশ্বিন মাস পর্যন্ত জেলার কাঁঠাল হাটগুলো জমে উঠে। কিন্তু গত শুক্রবার জেলার বেশ কয়েকটি পাইকারি হাট ঘুরে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। প্রায় হাটই পাইকার শূন্য, কয়েকটি হাটে অল্পসংখ্যক পাইকার থাকলেও নেই তাদের ব্যস্ততা। শিবপুর উপজেলার যোশর বাজারে আসা বিভিন্ন জেলার কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, রোজার আগে তাদের হরদম বেচাকেনা হয়েছে এবং ব্যবসাও ভাল হয়েছে। বর্তমানে আমরা যে দরে হাট থেকে কাঁঠাল ক্রয় করছি, রোজার আগে একই সাইজের কাঁঠাল দ্বিগুণ বা তার চাইতেও বেশি দরে আমরা চাষিদের কাছ থেকে কিনে নিতাম। বর্তমানে আমরাও গ্রাহক কম পাচ্ছি বলে কম কাঁঠাল কিনছি। কাঁঠালের দাম অর্ধেকে নেমে আসলেও আমরা গ্রাহকের অভাবে বেশি কাঁঠাল কিনতে পারছি না। শিবপুর উপজেলার ছোটাবন এলাকার কাঁঠাল বাগান মালিক ওমর আলী জানান, তার বাগানে মোট ৩৭২টি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। বিগত ১০ বছরের তুলনায় তার বাগানে এবার কাঁঠালের ফলন বেশি হয়েছে। মৌসুমের প্রথমে দাম ভাল পেলেও বর্তমানে প্রায় অর্ধেক দামে তাকে কাঁঠাল বিক্রি করতে হচ্ছে। মরজাল এলাকার অপর এক কাঁঠাল চাষি জহির মিয়া গতকাল জানান, সকাল ৮টায় তিনি ২০টি কাঁঠাল ১০০ টাকায় ভ্যান গাড়ি ভাড়া করে মরজাল বাজারে নিয়ে আসেন। বেলা ১টা পর্যন্ত মাত্র ৩টি কাঁঠাল ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বাকি কাঁঠাল বিক্রি করতে পারবেন কিনা সংশয়ে আছেন। নরসিংদীর কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সুভাষ চন্দ্র গাইন বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবং কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিগত সময়ের তুলনায় এবার কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। রমজান মাসে কাঁঠালের বাজারদর পড়ে গেলেও ঈদের পর এ মন্দাভাব কেটে যাবে। তখন কাঁঠালের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং চাষিরাও ফের ভাল দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে পারবেন।