রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োকেটনোলজি বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল এক বছরেও প্রকাশ হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত এই বিভাগের শুধু তৃতীয় বর্ষেরই নয়, বিভাগের অধিকাংশ বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল ৯ থেকে ১০ মাসের আগে প্রকাশিত হয় না বলেও বিভাগীয় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এতদিনে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃৃষ্টি হয়েছে। বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা গত বছরের ৩১ জুন শুরু হয়। এ হিসেবে পরীক্ষার এক বছর আগে শেষ হলেও, এখনও ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানান, এক বছর পরও কিছু কিছু শিক্ষক এখনও পরীক্ষার খাতা জমা দেননি। এজন্য তাদের চরম ভোগান্তির পোহাতে হচ্ছে।
তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক বিশ্বনাথ শিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন একাডেমিক জটিলতায় ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি অতিদ্রুত ফল প্রকাশ করতে পারব।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভাগে ২৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এছাড়া বিভাগে যেসব শিক্ষক উপস্থিত রয়েছেন, তারাও রুটিন অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্লাস ও পরীক্ষার কাজে শিক্ষকদের অমনোযোগিতা ও অবহেলাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের গত ২ নভেম্বর ১৩ ইং তারিখ থেকে প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়। এদিকে প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়নি। ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের গত দ্বিতীয় বর্ষের ফলাফল ৪ মাস ধরে দেয়া হয়নি। একইভাবে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের ফলাফল প্রায় দশ মাস ধরে প্রকাশ হয়নি। এছাড়াও ২০০৬-০৭ শিক্ষবর্ষের মাস্টার্সের ফলাফলও ৮ মাস ধরে প্রকাশিত হয়নি।
বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ফল প্রত্যাশী একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের কাছে প্রতিনিয়ত ফলাফলের জন্য গেলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় আমরা কোথাও চাকরির আবেদনের সুযোগ পাচ্ছি না। এতে করে আমাদের ভবিষ্যত্ জীবন হুমকির সম্মুখীন।’
বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক অনিল চন্দ্র দেব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে একাধিক বার একাডেমিক কমিটির মিটিং হয়েছে। শিক্ষকদের দ্রুত ফলাফল প্রকাশের তাগিদ দেয়া হয়েছে।’ তবে দ্রুত ফল প্রকাশের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনিও।
