বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের আওতাধীন সেতাবগঞ্জ চিনিকলে ২০১৮-২০১৯ উত্পাদন মৌসুমে উত্পাদিত ১৬ কোটি টাকার অধিক তিন হাজার ২৮২ দশমিক ২৫ মে. টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় গুদামে পড়ে রয়েছে। এই চিনি বিক্রি না হওয়ায় শ্রমিক কর্মচারীদের গত এপ্রিল মাস থেকে বেতনভাতা প্রদান বন্ধ রয়েছে। যার ফলে সেতাবগঞ্জ চিনি কলটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। আসন্ন ঈদের আগে বেতন-বোনাস পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন শ্রমিক কর্মচারীরা। এ নিয়ে মিল অভ্যন্তরে চলছে নানা অসন্তোষ। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতার চাপ ও কৃষকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিনিকল কর্তৃপক্ষকে।
চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ জানান, সদ্যসমাপ্ত মৌসুমে সেতাবগঞ্জ চিনিকল তিন হাজার ২শ ৮২ মেট্রিক টন চিনি উত্পাদন করেছে। সরকারি নির্ধারিত দরে যার বাজার মূল্য ১৬ কোটি ৪১ লাখ ৫শ টাকা, নতুন উত্পাদিত চিনি গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ার পরেও বেসরকারি রিফাইনিং মিলগুলো মুক্ত বাজার অর্থনীতির সুযোগে সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে কম দামে বাজারে চিনি বিক্রি করছে। ফলে আমাদের চিনি অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে।
এদিকে ডিলাররাও তাদের নির্ধারিত কোটার চিনিও উত্তোলন করেনি। স্থানীয় তালিকাভুক্ত ডিলাররা বিভিন্ন অজুহাতে তিন বছর যাবত্ চিনি তুলছেন না, গুদামজাত চিনি বিক্রি করার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও আশানুরূপ চিনি বিক্রি করতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যোগানে কারো সহযোগিতা না পাওয়ায়, চিনি বিক্রির উপর নির্ভর করে আছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সকলের মুখে এক কথা চিনি বিক্রি হলে বেতনভাতা বোনাস প্রদান সম্ভব হবে।
