জার্মানির প্রতি ভালবাসা থেকেই প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার লম্বা সেদেশের পতাকা তৈরি করেছেন মাগুরার কৃষক আমজাদ মোল্লা। সেই ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসাবে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা জানান ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফারদিনান্দ ফন। জার্মানির প্রতি আমজাদের ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ড. ফারদিনান্দ ফন বলেন, ‘আমি অভিভূত। ভালোবেসে জার্মানির এত বড় পতাকা এর আগে কেউ তৈরি করেছে বলে আমার জানা নেই। বাংলাদেশের একজন কৃষক ওই পতাকা তৈরি করায় তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পতাকা জার্মান জাতিকে এক করেছে। আমি মাগুরায় এসে পতাকা দেখে অভিভূত। এই পতাকার ইতিহাস আর বাংলাদেশের পতাকার ইতিহাস একই। আগামীকাল আমরা জার্মানি ও আর্জেটিনার ফাইনাল খেলা দেখব। কে জিতবে সেটা বড় কথা নয়।’
প্রায় তিন দশক আগে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মাগুরা পৌরসভার ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক আমজাদ (৬৫)। শত ওষুধে কাজ হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত জার্মানির তৈরি একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধ খান। তাতে কাজ হয়। জটিল রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেন আমজাদ। ওই ঘটনায় জার্মানির প্রতি তার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জন্মে। আমজাদ মোল্লা জানান, জার্মানির প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে ২০০৬ সালে প্রায় ৩৫০ গজ লম্বা জার্মানির একটি পতাকা তৈরি করেন। ওই বছর বিশ্বকাপ চলাকালে ওই পতাকাটি প্রদর্শনের জন্য মাগুরা শহরে নিয়ে যান। মানুষ তখন এটিকে পাগলামী বলেই ধরে নিয়েছিল। তবুও জার্মানির প্রতি তার ভালোবাসা এতটুকু কমেনি, বরং বেড়েছে। ওই বিশ্বকাপের পর পতাকা বড় করার কাজে মনোযোগী হন আমজাদ।
তিনি বলেন, ২০১০ সালের বিশ্বকাপের আগে পতাকাটি প্রায় সাত হাজার গজ লম্বা করেন তিনি। ওই বছর গ্রামের লোকজন নিয়ে পতাকাটি মাগুরা শহরের নোমানী ময়দানে প্রদর্শন করেন। এবারের বিশ্বকাপের আগে পতাকাটি প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা করেন তিনি। আমজাদ জানান, ধীরে ধীরে পতাকা তৈরি কাজটি করেছেন তিনি। তিনজন দর্জিকে মোট ৪০ হাজার টাকা মজুরি দিয়েছেন। পতাকা তৈরিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এক যুগ ধরে তিনি অল্প অল্প করে ওই পতাকা তৈরি করেছেন। অভাবী সংসারে এজন্য তাকে নানা গঞ্জনাও সহ্য করতে হয়েছে।
আমজাদ মোল্লার ভালোবাসা বৃথা যায়নি। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফারদিনান্দ ফন মাগুরার রামনগর এলাকায় জার্মান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত টেকসই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দেখতে যান। ওই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে বেলা দুইটার দিকে তিনি মাগুরা স্টেডিয়ামে যান। সেখানে আমজাদ হোসেনের তৈরি করা প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার লম্বা পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়।
পতাকাটি দেখে মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত হন ড. ফারদিনান্দ ফন। জার্মানির প্রতি আমজাদের ভালবাসার সম্মাননা হিসেবে তার হাতে ‘জার্মান ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যের‘ কাগজ তুলে দেন। এ সময় তাকে একটি ফুটবল ও জার্মানির জার্সিও উপহার দেন তিনি। অন্যদিকে আমজাদ মোল্লা জার্মান কূটনীতিকের হাতে কুলা, বাঁশি, ঢালাসহ কিছু উপহার সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় মাগুরা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের সেক্টর বিশেষজ্ঞ মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন। ড. ফারদিনান্দ ফন পরে ঘোড়ামারা গ্রামে আমজাদ মোল্লার বাড়িতেও যান।
