টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের জমজমাট ব্যবসা চলছে। এসব মোটরসাইকেল আসছে সাতক্ষীরা, যশোর, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, কুড়িগ্রাম ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব চোরাই মোটরসাইকেল যাত্রী পরিবহনের সাথে সাথে হত্যা, গুম, অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার মধ্যে মির্জাপুর অপরাধপ্রবণ এলাকা। উপজেলার পৌর এলাকা, জামুর্কি, মহেড়া, ফতেহ্পুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা ও বামতৈল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদে এসব চোরাই মোটরসাইকেল যাত্রী পরিবহনে কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এলাকার কিছু বেকার যুবক চোরচক্রের সদস্যদের প্রলোভনে পরে কমদামে নতুন পুরনো এই মোটরসাইকেল কিনে প্রতারিত হচ্ছে। এসবের নেই কোন নাম্বার প্লেট, শুধু পেছনে লেখা ‘অনটেস্ট’, ‘এএফআর’ অথবা কোন মোটরসাইকেল শো-রুমের লেমিনেটিং করা একটি কাগজ। চোর চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আঁতাত করে থানা ও ডিবি পুলিশ ভাড়ায় চালিত এসব হোন্ডার চালকদের নিকট থেকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট অংকের হিসাবে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ।
অপরদিকে মালিক ও হোন্ডা চালক সমিতির নামে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। প্রতিটি এলাকার সিন্ডিকেট এই চাঁদা উঠিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের মালিকরা জানিয়েছেন। প্রত্যেকটিতে প্রতিদিন ৩০-৬০ টাকা আদায় করে নিচ্ছে এই চক্র। মির্জাপুর উপজেলার মির্জাপুর-ভাদগ্রাম, মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া, মির্জাপুর-কামারপাড়া, দেওহাটা-বহুরিয়া, সোহাগপাড়া-লতিফপুর, মির্জাপুর-পাথরঘাটা-তরফপুর, পাকুল্যা-লাউহাটি, পাকুল্যা-মহেড়া-ফতেপুর, কুরনি-ফতেহপুরসহ ২৫/৩০টি রাস্তায় চলছে কমপক্ষে ১২শ’ চোরাই মোটরসাইকেল।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে এক পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু উদ্ধার ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
