বগুড়া জেলার চিত্র

কেনাকাটার নামে চলছে হরিলুট খাবার সরবরাহে পুকুর চুরি

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৮
বগুড়া জেলায় ৫শ বেডের একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, প্রাচীন ১টি ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৩৮টি ইউনিয়ন পর্যায়ের সাব সেন্টার, ২টি আরবান ডিসপেনসারি, ৩টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ , ২টি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, ওয়ার্ড পর্যায়ের ৩৬২টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ৬১টি ইউনিয়ন ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ রয়েছে। এত সব চিকিত্সা ব্যবস্থা থাকার পর বগুড়া জেলা চিকিত্সাসেবা নিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার রোগীরা। তারা ছুটছেন রাজধানী ঢাকায়। বিশেষ করে মা ও শিশু এবং প্রসূতি মায়ের চিকিত্সাসেবা এসব হাসপাতালে নেই বললেই চলে। ক্যান্সার রোগীদের চিকিত্সাসেবা খুবই অপ্রতুল। অনেক রোগীই চিকিত্সার অভাবে মারা যান। হাসপাতালগুলোর যন্ত্রপাতি অকেজো, খাবারের মান নিম্নমানের। সরকারিভাবে সরবরাহকৃত ওষুধ রোগীরা পায় না। চিকিত্সক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সংকট দীর্ঘদিন। চরম অব্যবস্থাপনা চলছে এ সেবায়। কেনাকাটার নামে চলছে হরিলুট, খাবার সরবরাহে চলছে পুকুর চুরি। কর্মরত চিকিত্সকদের মধ্যে ৮০ ভাগ থাকেন অনুপস্থিত। হাতের কাছে চিকিত্সাসেবার জন্য সরকারি এত বিশাল আয়োজন থাকা সত্ত্বেও শুধু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে কর্মস্থলে উপস্থিতি দেখার কেউ নেই। বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জন অফিসের মনিটরিং ব্যবস্থা খুবই করুণ। ৩৫ লাখ লোকের বগুড়া জেলায় চিকিত্সা ব্যবস্থার সব কিছু থাকা সত্ত্বেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিত্সাসেবা থেকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশনের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন বন্ধ। ময়লা আবর্জনা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পানির তীব্র সংকটে হাসপাতালগুলোতে হাহাকার অবস্থা। সরেজমিনে এ সব সরকারি হাসপাতালে গিয়ে অব্যবস্থাপনা চিত্র দেখা যায়। সরকারিভাবে জেলা সদর হাসপাতালসহ ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চিকিত্সকের পদ ৩৮৪টি। যার অর্ধেক অর্থাত্ ১৯২টি চিকিত্সকের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত্। এছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তা, নার্স, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর ২ শতাধিক পদ শূন্য রয়েছে। প্যাথলজি পরীক্ষা হয় না বেশিরভাগ উপজেলা হাসপাতালে। মোট ১৫টি এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ৮টিই অকেজো। অধিকাংশ হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, জেনারেটর, ক্যালোরিমিটার ও মাইক্রোস্কোপ অচল। অবকাঠামো থাকলেও জনবল নিয়োগের অভাবে জেলার নন্দীগ্রাম, আদমদীঘির সান্তাহার এবং শিবগঞ্জের আলীয়ারহাটে পৃথক ৩টি ২০ শয্যার হাসপাতাল চালু হচ্ছে না প্রায় দশকধরে। এরমধ্যে আলীয়াহাট হাসপাতালটির জন্য বরাদ্দকৃত যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন যাবত্। মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ঃ ২৫০ শয্যার এই জেলা সদর হাসপাতালটি জেলার অতি প্রাচীন হাসপাতাল। বগুড়া মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠার পর এটিই ছিল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (অস্থায়ী)। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পৃথক ভবন নির্মাণ হওয়ার পর এটি পুনরায় এককভাবে যাত্রা শুরু করে। এখানে তত্ত্বাবধায়কসহ মোট ৭৩টি পদের মধ্যে মাত্র ১৩টি চিকিত্সকের পদ শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে জরুরি মেডিক্যাল অফিসারের ৮টি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ১জন। ৭টি পদ দীর্ঘদিন যাবত্ শূন্য। ফলে জরুরি বিভাগের বেশিরভাগ রোগীকেই পাঠানো হয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তবে অন্য সবগুলোর তুলনায় এই হাসাপাতালে জনবল সংকট রয়েছে সবচেয়ে কম। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে কোন ঔষধ মেলে না। বগুড়া মেডিক্যাল ৫০০ শয্যার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিত্সকের ১৭৪টি পদের বিপরীতে ৪১টি পদ শূন্য রয়েছে। এই হাসপাতালে শিশু ও ডায়ারিয়া বিভাগের চিকিত্সক নেই। আগুনে পোড়া রোগীদের জন্য নেই আলাদা বার্ন ইউনিট। এখানে প্যাথলজি পরীক্ষা হলেও সিটি স্ক্যান মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় ব্যয়বহুল এই পরীক্ষাটি করতে রোগীদেরকে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। এই হাসপাতালে রয়েছে লিনিয়ার এক্সিলেটর মেশিন (যেটি ক্যান্সার রেডিও থেরাপি মেশিন)। এটিও দীর্ঘদিন যাবত্ অকেজো। রোগীরা ঔষধ পান না বলে অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা মানতে নারাজ। হাসপাতালটিতে দালালদের দৌরাত্ম চরম আকার ধারণ করেছে। পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা, এনডিসি জানান, ৫শ’ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৭৫০ থেকে ৮শ’ জন রোগী ভর্তি হয়। হাসপাতালে বেড না থাকলেও বাড়তি রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে। খাবার মান নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। তবে দালালদের উত্পাতের বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। জেলার স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ খলিলুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। তবুও সাধ্যমতো সর্বোত্তম সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। কাহালু ৫০ শয্যার হাসপাতাল উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে সাধারণ মানুষ ভাল চিকিত্সা সেবা পাচ্ছে না। হাসপাতালে চিকিত্সা সেবার পাশাপাশি তীব্র পানি সংকট রয়েছে। হাসপাতালের প্রধানসহ কোন ডাক্তার হাসপাতাল ক্যাম্পাসে থাকেন না। সবাই বাইরে থেকে আসা-যাওয়া করেন। কাহালু হাসপাতালে ২১ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৬ জন। এছাড়া এখানে আরএমও’র পদসহ সার্জারী, মেডিসিন ও অ্যানাস্থেসিয়া ডাক্তারের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। যার কারণে হাসপাতালে কোন অপারেশন হয় না। হাসপাতালে গাইনি ডাক্তারের পদে পুরুষ থাকলেও ওই ডাক্তার ঠিকমত হাসপাতালে আসেন না। শুধু তাই নয় এ হাসপাতালে নাক, কান গলাসহ ৭ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকলেও তারা সপ্তাহে ২/৩ দিন হাসপাতালে আসেন এবং বাকি দিনগুলোতে শহরের চেম্বার ও ক্লিনিকে রোগী দেখে থাকেন। শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে ডাক্তার সংকট, আবাসিক চিকিত্সক না থাকা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ সুচিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালে অত্যাধুনিক একটি এক্সরে মেশিন থাকলেও হাইভোল্টেজ বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকায় তা চালু করা যাচ্ছে না। জোড়াতালি দিয়ে চলছে এম্বুলেন্স। এছাড়া জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুত্ চলে গেলে রাতের বেলায় হাসপাতাল এলাকায় ভূতুড়ে অন্ধকার নেমে আসে। এছাড়া গ্রাম পর্যায়ে মোট ২৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু থাকলেও অধিকাংশ ক্লিনিক দুপুরের পরে আর চালু থাকে না। যদিও ক্লিনিকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম রয়েছে। শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের পরিবর্তে মূলত চিকিত্সা ব্যবস্থা চালু রেখেছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসাররা (মেডিক্যাল এসিসটেন্ট)। কিন্তু আগত রোগীরা তাদের দেয়া চিকিত্সায় তুষ্ট হতে পারছেন না। শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন হয়নি। গাবতলী বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে ৩০ চিকিত্সকের মধ্যে ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। অপারেশনের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় সার্জন না থাকায় সেগুলো এখন বাক্সবন্দী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা নিম্নমানের খাবার অনেক রোগীই গ্রহণ করে না। সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালের খাবার সরবরাহের ঠিকাদারী করায় কেউ কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। ফলে ৫০ শয্যার গাবতলী হাসপাতাল এখন নিজেই রোগী। দুপচাঁচিয়া বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক ও কর্মচারী সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে চিকিত্সাসেবা। প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগী ও তাদের লোকজনদের। অপরদিকে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে¬র একমাত্র জেনারেটরটি ২০০৬ সাল থেকে বিকল থাকায় বিদ্যুত্ যাওয়ার সাথে সাথে গোটা হাসপাতাল চত্বরে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন চিকিত্সকের স্থলে ৮ জন চিকিত্সক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে আবার সময়মত চিকিত্সক না আসায় প্রতিদিন চিকিত্সা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ওষুধের বরাদ্দ, চিকিত্সক, নার্স ও লোকবল বাড়ানো হয়নি আজ পর্যন্ত। শল্য চিকিত্সক (সার্জিক্যাল) এবং অ্যানেসথেসিয়া (অচেতন বিশেষজ্ঞ) চিকিত্সক না থাকায় অস্ত্রোপচার (অপারেশন) হয় না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গাজী সাইফুর রহমান জানান, এ হাসপাতালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। বেশ কয়েকবার চিকিত্সকসহ বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লে¬খ করে আবেদন করা হয়েছে। ধুনট ধুনট উপজেলার সোয়া ৩ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক স্বল্পতা, ওষুধের অভাব ও যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। এখানে ৩১ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৭ জন ডাক্তার কর্মরত আছেন; কিন্তু একজন ডাক্তারও কর্মস্থলে থাকেন না। নার্সের দুটি পদও দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। ৫ জন সুইপারের মধ্যে ২ জন রয়েছে। ২০০৪ সালে ৮ লাখ টাকায় ক্রয়কৃত এক্সরে মেশিনটি একদিনের জন্যও চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ইসিজি মেশিনটি বিকল রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। ২টি অপারেশন থিয়েটার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। সাধারণ রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। আদমদীঘি বগুড়ার আদমদীঘিতে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ২১ জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত্ শূন্য রয়েছে ১১ পদ। এখানে কলম খাতায় যোগদান করা চিকিত্সক ১০ জন। এরমধ্যে একজন বিদেশে, একজন চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, আর ১ জন প্রেষণে বগুড়ায় কর্মরত আছেন। ফলে মাত্র ৭ জন দিয়ে চলছে চিকিত্সা কাজ। হাসপাতালে রোগীদের ওষুধ কিনতে হয় বাইরে থেকে। এই হাসপাতালে অপারেশনের যন্ত্রপাতি থাকলেও সার্জন না থাকায় অস্ত্রোপচার (অপারেশন) হয় না। সরবরাহকৃত খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে রোগীদের। সোনাতলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে ডাক্তার-নার্স সংকটের কারণে চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে সোনাতলা উপজেলা। চিকিত্সার জন্য এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার (মেডিক্যাল অফিসার) থাকার কথা ২১ জন। সেখানে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭ জন। শূন্য রয়েছে ১৪টি পদ। শূন্য পদগুলো হ’ল-আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী, মেডিসিন, এ্যানেসথেসিস্ট, শিশু, অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজি, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন। এসব পদে প্রতিটির একটি করে মোট ১০টি, সহকারী সার্জন পদে ৩টি ও ডেন্টাল সার্জন পদে ১টি। এছাড়া দিগদাইর, মধুপুর, পাকুল্যা ও তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দে ১টি করে সহকারী সার্জন পদ ও বালুয়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দে মেডিক্যাল অফিসারের ১টি পদ শূন্য রয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও চিকিত্সক রয়েছেন ৭ জন। এই ৭ জন চিকিত্সক সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ৪টি সাব-সেন্টারে ৪ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। নতুন ৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৮জন সহকারী সার্জন থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ থাকলেও আছেন মাত্র ২ জন। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এবং এ্যানেসথেসিস্ট না থাকায় অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: বিধান চন্দ মজুমদার জানান, চিকিত্সক চেয়ে বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো কাজ হয় না। নন্দীগ্রাম বগুড়ার নন্দীগ্রাম বিজরুল ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। চিকিত্সা সেবা দারুণভাবে ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় দেড় লক্ষ লোক চিকিত্সা সেবা না পেয়ে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের ওপর। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে নেই কোনো অপারেশন থিয়েটার। এছাড়া দীর্ঘদিন যাবত্ এক্স-রে মেশিন অচল হয়ে পড়ে আছে। উপজেলা হাসপাতালের অধীনে ৫টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দে চিকিত্সকের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২০টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৫ জন। ৫টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দে র জন্য ১ জন চিকিত্সক। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে ২১ জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও চিকিত্সক রয়েছেন ৯ জন। এই ৯ জন চিকিত্সকও সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ৯টি সাব-সেন্টারে ৯ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক টেকনিশিয়ান এবং এ্যানেসথেসিস্ট না থাকায় অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত্ এক্স-রে মেশিনটি অকেজো থাকায় রোগীদের এক্স-রে রিপোর্টের জন্য বগুড়া জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। গাইনী চিকিত্সক নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা. মুসা আল মানসুর জানান, চিকিত্সক চেয়ে বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। শাজাহানপুর শাজাহানপুর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে চিকিত্সক স্বল্পতা, ওষুধের অভাব ও যন্ত্রপাতি বিকল থাকায় রোগীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। এখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও ১০টি সাব-সেন্টারে মোট ২০ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও আছেন ১৫ জন। এরমধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জনের স্থলে আছেন ৮জন। গাইনী বিভাগের কোনো চিকিত্সক নেই। সাথে নেই অজ্ঞানকারী (এ্যানেসথেসিয়া) চিকিত্সক। যারা আছেন তাদের সিংহভাগই কর্মস্থলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকেন না। এক্স-রে মেশিনসহ ইসিজি মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাফী মেশিন নেই। জেনারেটর থাকলেও সেটি অচল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক যদিও মেলে, মেলে না ওষুধ। পরীক্ষা করাতে বাইরে যেতে হয়। চিকিত্সকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সবমিলিয়ে কম খরচে সরকারি হাসপাতালে সেবা পওয়ার কথা থাকলেও শাজাহানপুর উপজেলাবাসী তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।