গাজীপুর সিটি কার্পোরেশনের নারী কাউন্সিলর নিখোঁজ পারভীন আক্তার উদ্ধার হয়েছেন। নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘন্টা পর শনিবার রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপেজেলা থেকে হা-পা বাধা অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। রাতেই তাকে ভর্তি করা হয়েছে নবীগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তার গায়ে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি সুস্থ আছেন বলে ডাক্তারা জানিয়েছেন।
জয়দেবপুর থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান কাউন্সিলর পারভীন আক্তারের উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে রাত ৯টার দিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে নবীগঞ্জ থানার পুলিশ। উদ্ধারের খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানার ওসি (তদন্ত) আলমাস তাজ নবীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
পারভীন আক্তার সিটি কর্পোরেশনের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুর সদরের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পানিশাইল ব্যাটারি ফ্যাক্টরির পাশে একটি গ্রাম্য সালিশের উদ্দেশ্যে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান, এরপর ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে পারভীন আক্তারের স্বামী মিনহাজউদ্দিন জয়দেবপুর থানায় জিডি করেছেন। জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান জানান, পারভীন আক্তারকে উদ্ধারের দাবিতে গতকাল সকাল দশটার দিকে এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায় এলাকাবাসী কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কে অবস্থান নেন। এসময় সড়কের উভয় পাশে হয় তীব্র যানজট। পুলিশের আশ্বাসে তারা সকাল ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন।
পারভীন আক্তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তার পিতার হত্যাকারীরা জড়িত থাকতে পারে বলে পরিবারের সদস্যদের ধারণা।
কাউন্সিলর পারভীনের চাচা দুলাল মিয়া জানান, ২০১১ সালের ২৩ জুলাই তার বড়ভাই ও কাউন্সিলর পারভীন আক্তারের পিতা মুক্তিযোদ্ধা চান মিয়া জমি সংক্রান্ত বিরোধে খুন হন। ওই খুনের ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী দুলাল হাজীসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার বাদী ছিলেন চান মিয়ার মেয়ে কাউন্সিলর পারভীন আক্তার। মামলায় চান মিয়া খুনের সন্দেহভাজন আসামিদের পুলিশ চার্জশিট থেকে বাদ দেয়। পরে বাদীপক্ষ ওই চার্জশীটের বিরুদ্ধে আদালতে না-রাজি আবেদন দিলে মামলার তদন্ত শুরু করে সিআইডি। গত দেড়-দুইমাস আগে বিষ্ণু ওরফে সাগর, রমজান, সোহেল ও জুয়েল নামে চারজনকে দক্ষিণ পানিশাইল এলাকা থেকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এদের মধ্যে বিষ্ণু ওরফে সাগর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর থেকেই হত্যা মামলার আসামিরা পারভীনকে মোবাইলে হুমকি প্রদান করতে থাকে। এ ব্যাপারে পারভীন আক্তার গত ৬ জুলাই এবং বিভিন্ন সময়ে জয়দেবপুর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
পারভীন আক্তারের স্বামী মিনহাজউদ্দিন জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী পারভীন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) চাকরি করতেন। তিনি ছিলেন টেনিস ট্রেনার এবং তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ছিলেন জিমনেস্টিক ট্রেনার। জাতীয় পর্যায়ে পারভীন আক্তার একাধিক পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৯ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর থেকেই তিনি স্ত্রীর সঙ্গে দক্ষিণ পানিশাইল এলাকায় বসবাস করছেন। তবে পারভীন কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তার পিতার হত্যাকারীরা তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে পারভীন আক্তার সবার বড়। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক। গতকাল দুপুরে গাজীপুর থানায় খবর আসে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর এলাকায় পারভীন আক্তারে সন্ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর সুমন দাসগুপ্ত জানিয়েছেন, যে খবর প্রচার হয়েছে তা ভিত্তিহীন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন গতকাল দুপুরে নিখোঁজ নারী কাউন্সিলর পারভীন আক্তারের বাসায় যান।
