ঈদের পর দেশ রক্ষার আন্দোলন

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৯
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ঈদের পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ রক্ষার আন্দোলনে নামতে হবে। সরকারের যদি সুমতি না হয় তবে পরিণতি হবে ভয়াবহ। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, দেশবাসী প্রস্তুত আছেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের পর সরকারকে বাধ্য করা হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের অবস্থা খুব খারাপ। আমরা সকলেই বিপদের মধ্যে রয়েছি। এ অবস্থায় দেশে বসবাস করা অসম্ভব। প্রতিদিন যেভাবে খুন-গুম হচ্ছে তা চলতে পারে না। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইফতারে সভাপতিত্ব করেন এনডিপি চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মুর্ত্তোজা। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) কাজী জাফর আহমদ, জামায়েত কর্মপরিষদ সদস্য ডা. সাঈদ আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মওলানা ইসাহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটির পার্টির মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, এপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, বাংলাদেশ ম্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানী, লেবার পার্টর চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ, মুসলিম লীগ সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামন খান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মবিন, পিপলস লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজ, ডিএল সাধারণ সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ কমরেড সাঈদ আহমেদ প্রমুখ। ‘ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় এগিয়ে আসুন’ ইসরাইলের জীবনবিনাশী সামরিক অভিযান বন্ধে চাপ সৃষ্টিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, পবিত্র রমজান মাসেও ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠী ইসরাইলী বর্বর আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের নির্বিচারে বিমান হামলায় নারী ও কোলের শিশুসহ শতাধিক ফিলিস্তিনিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ছয়শ’ জনের অধিক ফিলিস্তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, বিপন্ন ধ্বংসসূ্তপে পরিণত করা হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। খালেদা জিয়া বলেন, ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের দাবিকে ধ্বংস করার জন্যই সমস্ত হিংস্রতা দিয়ে এই সামরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে। আমি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের এহেন সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর অন্যায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসরাইল যদি তার আগ্রাসী মনোভাব বরাবরের মতো অব্যাহত রাখে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে কখনোই শান্তি ফিরে আসবে না। অপর এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি পৈশাচিক হামলায় নারী-শিশুসহ শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।