গতকাল শনিবার সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে ‘সাভার টেক্সটাইল (সুরমা)’ পোশাক কারখানার বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা ভাংচুর শুরু করলে মালিকপক্ষের লোকজনের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে তাছলিমা নামের এক নারী শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে স্থানীয় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সাভার পৌরসভাধীন আইচানোয়াদ্দা মহল্লায় সাভার টেক্সটাইল (সুরমা) পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিতে এসে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কারখানার গ্লাস ভংচুর করলে কারখানার ভিতরে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা ঢুকে শ্রমিকদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় দু’গ্রুপে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। শিল্প পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শ্রমিকদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে শ্রমিকরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। শ্রমিকরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। শুরু হয়ে যায় শ্রমিক-পুলিশ-মালিকপক্ষের ত্রিমুখী সংঘর্ষ। আশেপাশে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আশেপাশের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আহতদের স্থানীয় এনাম মেডিক্যাল ও আশেপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাছলিমা নামে নারী শ্রমিকের মাথায় রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়।
শিল্প পুলিশ-১-এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানা ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়। শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতেই পুলিশ টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করেছে। কারখানার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর ইকরাম বলেন, শ্রমিকরা কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে কম্পিউটার রুম, মেডিক্যাল সেন্টার, আসবাবপত্র ও গ্লাস ভাংচুর করেছে। আজ রবিবার শ্রমিকদের জুন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে বলে জানান তিনি। আহত শ্রমিক আলতাফ অভিযোগ করেন, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করলে মালিকপক্ষের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
বাংলাদেশ গামেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, বকেয়া বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছিল। এ সময় মালিকপক্ষের ভাডাটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশ বিনা উস্কানিতে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। তিনি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দায়ি ব্যক্তিদের তদন্তপূর্বক গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসাথে আহত শ্রমিকদের সু-চিকিত্সার দাবি জানিয়েছেন। সহিংস ঘটনা এড়াতে গতকাল কারখানাটি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কারখানায় পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই দাবিতে আশুলিয়ার ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) পুরাতন জোনের ব্যাক্সটার ব্রেনটন (বিডি) নামক তৈরি পোশাক কারখানা ও জামগড়া এলাকার ইয়াগি বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতিসহ কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।
