প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নিয়োগ

বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা বিজেপি’র

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৪, ২২:৫১
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখ্য সচিব পদে নৃপেন্দ মিশ্রের নিয়োগকে বৈধতা দিতে দরকষাকষিতে নামছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে সরকার। কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, দলটির কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে, মিশ্রের নিয়োগ নিয়মানুগ করার জন্য টেলিকম রেগুলেটরি অ্যাক্ট অব ইন্ডিয়া ( ট্রাই) আইন সংশোধন বিলটি পাশ করাতে দিলে তারাও বিরোধী দলনেতার পদটি সোনিয়া গান্ধীর দলকে দেওয়ার বিষয়ে ভাববে। টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (ট্রাই) সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন নৃপেন্দ্র মিশ্র। তিনি একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ট্রাই আইন অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের কোনো চেয়ারম্যান অবসর নেওয়ার পর আর সরকারি পদে নিযুক্ত হতে পারেন না। কিন্তু মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়েই নৃপেন্দ্রকে তার মুখ্যসচিব হিসাবে নিয়োগের জন্য অর্ডিন্যান্স জারি করেন। ট্রাই আইন বদলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। সেই অর্ডিন্যান্স বিল হিসেবে লোকসভায় পেশ হতেই বিরোধিতার মুখে পড়ে সরকার। বিরোধিতা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দিতে আইন সংশোধন করা হলে তা একটি খারাপ রেকর্ড হয়ে থাকবে। লোকসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি পাশ করাতে অসুবিধা হবে না। কিন্তু রাজ্যসভায় বিজেপি সংখ্যালঘু। সেখানে সমস্যায় পড়বে সরকার। তার পরেও বিলটি পাশ করানোর পন্থা রয়েছে সরকারের হাতে। লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশন ডেকে তারা এ কাজ করতে পারে। পরমাণু চুক্তি পাশ করাতে মনমোহন সরকার এই পথই বেছে নিয়েছিল। বিলটি পাশ করতে দেওয়ার বদলে লোকসভায় বিরোধী দলনেতার পদ কংগ্রেসকে দেওয়ার টোপটি ইতোমধ্যেই দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু তাতে সাড়া দেওয়ার ব্যাপারে ভিন্নমত রয়েছে কংগ্রেসেই। কংগ্রেস কী সাড়া দেয় দেখে, তারপরই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে মোদী সরকার। দরকারে যৌথ অধিবেশন ডেকে পাশ করানো হবে ট্রাই আইন সংশোধন বিলটি। লোকসভায় ৫৪৫ আসনের বিজেপি’র আছে ২৮২ আসন। আর রাজ্যসভায় ২৪৫ আসনের মধ্যে বিজেপি’র এককভাবে ৪৩ এবং মিত্রদের নিয়ে আছে ৫৬টি আসন।