‘মোরা এক ঘাটেতে রান্দি বাড়ি আরেক ঘাটে খাই, মোদের সুখের সীমা নাই, পথে-ঘাটে ঘুরে মোরা সাপ খেলা দেখাই, মোদের ঘর বাড়ি নাই।’
গানটি অতি পরিচিত বেদে বা যাযাবরদের গান। কিন্তু তাদের ঘরবাড়ি না থাকলেও তারা পিছিয়ে নেই। মানব জীবনের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে বিদ্যুতের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে বিদ্যুত্ ছাড়া একটি মুহূর্ত কল্পনা করাই মুশকিল। দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুত্ বঞ্চিত মানুষের অনেকেই সৌর বিদ্যুত্ ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করছেন। যার ছোঁয়া লেগেছে ভাসমানভাবে বসবাসকারী বেদে পল্লীতেও।
এক সময় বেদেরা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নৌ-বহর নিয়ে এসে ব্যবসা করতেন। কিন্তু বর্তমানে নৌকা তৈরির কাঠের সংকটে অধিকাংশ বেদে স্থলপথেই চলাচল করে থাকেন। সাভারের পোড়াবাড়ি, নোয়াখালী, বরিশাল, ঝালকাঠি, বিক্রমপুর, মুন্সীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গাজীপুরের জয়দেবপুর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, মিরসরাই, তিনটুরী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা, এনায়তেগঞ্জ, ফেনীর সোনাগাজীসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এসব বেদের আবাস। সুনামগঞ্জের সোনাপুরে বাস করে বেদে সমাজের বৃহত্তর একটি অংশ।
বিভিন্ন সময় জিয়ানগর উপজেলার শহিদ ফজলুল হক মনি সেতুর নিচে চাড়াখালী গ্রামে বেদেরা ঘাঁটি গাড়েন। এখানে তারা পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে ২/৩ মাস থেকে ব্যবসা করে আবার অন্য এলাকায় চলে যান। আগে তারা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করতেন। কিন্তু বতর্মানে বেদেদের অনেকেই সৌর বিদ্যুত্ ব্যবহার করছেন। এই বিদ্যুত্ ব্যবহার করে তারা নিয়মিত মোবাইল চার্জ ও আলোর প্রয়োজন মেটাচ্ছেন বলে জানালেন বিক্রমপুর থেকে আসা বেদে বহরের সর্দার ছাত্তার মোল্লা (৫৮)।
বেদে হেমায়েত মোল্লা (২৮) জানান, ‘একটা মোবাইল চার্জ করতে আমগো অনেক দূরে গিয়া ট্যাকা দিয়া চার্জ করাইতে হয়। মোবাইল ছাড়া তো আর অহন চলা যায় না। হেইর লাইগাই সৌর বিদ্যুত্ কিনছি।’
সর্দার ছাত্তার মোল্লা বলেন, আমরা ৯টি ঘরে মাত্র ৩ টি প্যানেল ব্যবহার করে বিদ্যুতের চাহিদা মোটামুটিভাবে পূরণ করতে পারছি। এখন অধিকাংশ বেদে সৌর বিদ্যুত্ ব্যবহার করছেন বলেও জানান তিনি।
