ব্রাজিল বিশ্বকাপ অনেকগুলো হূদয় বিদারক মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে। প্রথম সেমি ফাইনালে ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্রাজিলের ৫ গোল খাওয়ার পর এক শিশুর কান্না বিশ্ববাসীর হূদয়কে নাড়া দিয়েছিলো। তেমনি দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হার্টব্রেকিং টাইব্রেকারে হারার পর আরিয়েন রোবেনের স্ত্রী-পুত্রের কান্না গণমাধ্যমের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পুত্র লুকার অঝোর কান্না সাড়া ফেলে দিয়েছে সর্বত্রই। খেলার ফলাফল নির্ধারণ হওয়া মাত্র কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ছয় বছর বয়সী পুত্র লুকা। কাঁদতে কাঁদতে মায়ের বুকে মুখ লুকায় সে। এসময় রোবেনের স্ত্রী বার্নাদিয়েন ইলার্টও অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। সদ্য পরাজয়ের শোকে আচ্ছন্ন রোবেনও বিষয়টি বুঝতে পারনে। প্রিয় মানুষের শোকে তিনিও গ্যালারিতে থাকা স্ত্রী-পুত্রকে সান্ত্বনা দেন। ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন কিছুক্ষণ।
রোবেন ২০০৭ সালের ৯ জুন তার একসময়ের গার্লফ্রেন্ড বার্নাদিয়েন ইলার্টকে বিয়ে করেন। হাইস্কুলে পড়ার সময়ই ইলার্টের সঙ্গে পরিচয়। সেখান থেকেই দু’জনের মধ্যে প্রণয়ের সূত্রপাত। দীর্ঘ প্রেমজীবনে অবশেষে ২০০৭ সালে তারা পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। বড় ছেলে লুকার জন্ম ২০০৮ সালে, এরপর ২০১০ এ মেয়ে লিনের জন্ম। দুই বছর বয়সী সবচেয়ে ছোটো ছেলের নাম কাই।
রোবেনের প্রেম ও বিয়ের গল্পটাও বেশ মজার। তার আগের কোচ ব্যারেন তার স্মৃতি কথায় জানিয়েছেন সে কাহিনী। প্রাকটিসে খুব মনোযোগী রোবেন কখনই দেরি করতেন না। সর্বদাই সময়ানুবর্তী রোবেন। একদিন হঠাত্ তার কোচ দেখলেন রোবেন ১৫ মিনিট দেরিতে হাজির হয়েছেন। কোচ ব্যারেন জানতে চাইলেন দেরি হওয়ার কী কারণ? একটু মার্কেটে আড্ডা দিতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে, রোবেনের উত্তর। কোচ অনুমান করলেন কিছু। তারপর হেসে বললেন, ‘সে’ও কী ছিলো সেখানে। রোবেন সম্মতি সূচক মাথা নাড়েন। পরে সেই মেয়েকেই আজীবনের জন্য সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন ডাচ ফুটবলের অগ্রসেনানী আরিয়েন রোবেন।
