ত রু ণী ক থা ...................

অ্যাশরিন আলী

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৪, ১৯:৩৫
ছোটবেলায় সব ঠিকঠাকই ছিলো। একটু বড় হয়ে উঠতেই সব কেমন আলাদা হয়ে যায়। ছোটবেলায় ছেলে বন্ধু, মেয়ে বন্ধুতে কোন তফাত্ ছিলো না। কিন্তু যখন একটু বড় হলাম, আমাকে গার্লস স্কুলে ভর্তি করে দেয়া হলো। আমার মনে হয়, ছেলে-মেয়েকে মানসিকভাবে আলাদা করে দেয়ার জন্য পৃথক পৃথকভাবে তাদের আলাদা স্কুলে ভর্তি করানো হয়। এর চেয়ে বরং কো-এডুকেশন ভালো। ছেলে-মেয়েরা একসাথে পড়াশুনা করলে তাদের উভয়েরই ব্যক্তিত্ব বিকাশ যেমন সহজ হয়, তেমনি পরস্পরকে পরস্পর থেকে আলাদা ভাবার ব্যাপারটাও ঘটে না। স্কুল গণ্ডি পেরুনোর পর কলেজে ওঠার পর ব্যাপারটি আরো প্রকটভাবে ঘটে। কলেজে যাবার পথে মাঝে-মধ্যেই রাস্তার অপরিচিত ছেলেদের বাজে মন্তব্য শুনতে হতো। ব্যাপারটা খুবই বিব্রতকর। রাস্তায় এতো মানুষের ভেতর এভাবে বাজে মন্তব্য করার বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে বৈধ না হলেও হরহামেশাই ছেলেরা এ কাজটি করে থাকে। একই কাজটি ঘটে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে। বিশেষ করে ফেসবুকে অপরিচিত ছেলেরা মাঝে-মধ্যে এমন সব অশ্লীল মন্তব্য করে পাঠায়, যেন আমি কেবলই একজন নারী, ভোগ্যবস্তু। এমন বাজে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রতিদিনই আমার মতো অসংখ্য তরুণীকে যেতে হয়। গাড়িতে উঠলে আমার জন্য বরাদ্দ থাকে আলাদা সিট। আর সেটার অনুপাত পুরুষের সিটের সংখ্যার তুলনায় খুবই নগণ্য। এ বিষয়টি একজন মানুষকে ক্রমশ নিজের কাছে নিজেকে ছোট করে তোলে বলে আমার বিশ্বাস। কিন্তু একজন নারী কী বুদ্ধিমত্তায়, মেধা-প্রতিভায়, চিন্তায়-চেতনায়, অনুভূতিতে বা কর্মদক্ষতায় একজন পুরুষের চেয়ে কম? আমার তেমনটা মনে হয় না। কিন্তু পুরুষশাসিত এই সমাজ প্রতিনিয়ত আমাকে ভাবতে বাধ্য করে— আমি নারী, আমি পুরুষের সমকক্ষ হতে পারবো না। নানাভাবে, নানা সামাজিক ব্যাকারণের মধ্য দিয়ে আমাকে শেখানো হয়, আমার মেধা প্রতিভার চেয়ে আমার সাজগোজ, সৌন্দর্য, পুরুষকে তৃপ্ত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষের গড়া এসব শৃঙ্খলকে ভেঙে বেগম রোকেয়ার মতো অনেকেই নিজের অবস্থানকে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমিও তাদের কাতারে গিয়ে দাঁড়াতে চাই। নিজেকে নারী নয়, মানুষ হিসেবে যেমন ভাবতে চাই, তেমনি এমন অবস্থানে যেতে চাই, যেখানে মানুষ আমাকে মানুষ হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদা দেবে।