সা ক্ষা ত্ কা র ..................................

যোগ্যতায় নারীরা অনেক দূর এসেছে

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৪, ১৯:৩৫
আইরিন জেভিয়ার মালয়েশিয়ার নাগরিক। ত্রিশ বছর কাজ করছেন নারী শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে। ২০০৯ সাল থেকে আইরিন যুক্ত হয়েছেন পারচেজিং পাওয়ার প্যারেটি (পিপিপি) ক্যাম্পেইনে। দক্ষিণ এশীয় গার্মেন্টস শ্রমিকদের একটি ন্যূনতম সম্মানজনক মজুরির দাবি করছেন। সম্প্রতি এই ক্যাম্পেইনে এশিয়ান ফ্লোর ওয়েজের প্রতিনিধি হয়ে আইরিন ঢাকায় এলে মহিলা অঙ্গনের পক্ষ থেকে তার সাক্ষাত্কার গ্রহণ করেন— রাবেয়া বেবী পারচেজিং পাওয়ার প্যারেটি (পিপিপি) বিষয়টি কি? এটি গার্মেন্টস নারী শ্রমিকদের একটি স্ট্যান্ডার্ড মজুরির আন্দোলন। দক্ষিণ এশিয়ার যে সকল দেশ গার্মেন্টস শিল্পে উন্নতি করেছে, সে সকল দেশে আমরা ন্যূনতম একটা মজুরি দাবি করছি। একেই পিপিপি বা পিপি ডলার বলছি। পিপি ডলার ৭২৫ ডলার ধরা হয়েছে। এটা সেই দেশের টাকা অনুযায়ী হবে। বাংলাদেশের পিপি ডলারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার টাকা। আপনারা এশিয়ার কয়টি দেশে এই ক্যাম্পেইন করছেন? এশিয়ার ৮টি দেশে আমরা ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য যে দেশগুলোতে গার্মেন্টস শিল্প এগিয়ে গেছে তারা। চায়না, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকদের আমরা পিপিডি পাইয়ে দিতে চাই। আপনারা কিভাবে কাজটা করছেন? আমাদের লক্ষ্য বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো। তারা এক একটি পণ্যে অনেক মুনাফা করলেও, শ্রমিকের হাতে এসে তার ছিটেফোঁটাও পায় না। ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে একটি শার্টের মূল্য ৩০/৪০ ইউরো কিংবা ডলার। সেই অনুপাতে আপনার দেশেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি কত? পার্থক্যটা ভেবে দেখেন। দিন দিন জীবন-যাপনের ব্যয় বাড়ছে। এটা তাদের কাজের পারিশ্রমিকের বেশি কিছু না। আমাদের দেশে কাদের এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনবেন? অবশ্যই মালিকপক্ষ। আর মালিকপক্ষকে বোঝাতে আমরা বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আন্দোলন এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর পরিচালিত সংগ্রামী আন্দোলন ও ভূমিকাকে আরো কার্যকর করা ও বৈশ্বিক সংহতি গড়ে তোলার পন্থা নিয়ে কাজ করবো। প্রথমসারির পোশাক প্রস্তুতকারী/ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে শ্রমিকদের জন্য জীবন-মানসম্পন্ন মজুরি আদায়ের লক্ষ্যে এশিয়া-ইউরোপ-আমেরিকার শ্রমিক সংগঠনসমূহের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই সকল এশিয়ার দেশে শ্রমিকদের অবস্থা কমবেশি একই রকম। বাংলাদেশে যেমন শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যে আছে, শ্রমিকদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার নেই, বেতনভাতাসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। এমন অবস্থা অন্য দেশগুলোতেও। কম্বোডিয়ায় দারিদ্র্যের জন্য শ্রমিকরা না খেয়ে কাজে আসে, কর্মস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। ওদের এটি খুব সাধারণ ঘটনা। নারীরা তো অনেক এগিয়েছে, কাজ করছে। এই বৈষম্য দূর করতে কি করতে হবে? যোগ্যতায় নারীরা অনেকদূর এসেছে, ক্ষমতায়নের পথে এখনও অনেক বৈষম্য। তুমি দেখ তোমার দেশের রাজনীতিতে নারী শীর্ষ পর্যায়ে আছে। তার পরেও নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য আছে। আমাদের দেশেও আছে। একজন নারী হিসেবে আমি দেখেছি সামাজিক ও পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। তোমার দেশে, আমার দেশে, তেমন কম্বোডিয়াতেও। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাফল্য কতটুকু? আমাদের সাথে তারা মজুরি ইস্যুতে কথা বলতে শুরু করেছে। কোথাও বলছে দাবিটির যুক্তি আছে। তবে এখন আদায় করে নিতে হবে পিপিপি।