ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার শ্মশান ঘাট বেহাল

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ২২:১২

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার শ্মশান ঘাটের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। দ্রুত এর সংস্কার প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম মহাশ্মশান ঘাটটি পরিদর্শন করেছেন। সরেজমিনে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সদর ছাড়াও আশপাশের এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পরিবারের কেউ মারা গেলে অতীতে সে কাজ সম্পাদন করা হতো নদমুলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের গরুর হাট স্থানের শ্মশানে। সেটি অনেক আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শ্মশানটি প্রায় দেড়যুগ আগে ওই স্থান থেকে স্থানান্তরিত করে নেয়া হয়েছে ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়ে। অর্থাত্ ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালের কাছে কঁচা নদীর তীরে। কিন্তু কঁচা নদী তীরবর্তী হওয়ায় বর্তমানে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ছাড়াও সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে ডুবে যায় স্থানটি। ওই স্থানটি নিচু এবং নদী তীরবর্তী হওয়ায় এ এলাকার সাবেক মন্ত্রী, জাতীয় পার্টি—জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশ কিছুদিন আগে সাময়িক সমাধান করা হয়েছে। এদিকে এ শ্মশানে লাশের সত্কারের জন্য নিয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত ছোট ট্রলার ব্যবহার করা হয়। আর নদীতে ঘাটলা না থাকায় লাশ নিয়ে পড়তে হয় মহাবিপদে। সামনে বর্ষা মৌসুম, এর আগেই শ্মশান ঘাটটিতে একটি বাউণ্ডারি ওয়াল, রাস্তা, টলসেট এবং নদীতে একটি ঘাটলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস জানান, স্বাধীনতার পূর্ব থেকে শিয়ালকাঠী গরুর হাট মহাশ্মশানে লাশ দাহ করা হতো। সেটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর এখানে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে মৃতের সত্কার করা হচ্ছে। বর্তমান সমস্যা সাবেক মন্ত্রীসহ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এদিকে সোমবার সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সরেজমিনে উপজেলা কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটটি পরিদর্শন করেছেন। এসময় উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কিরন চন্দ্র বসু ও  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সমস্যার বিষয়ে এলাকার সংসদ সদস্যসহ সকলের সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবো।