দেশে কার্যরত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ বিতরণ হচ্ছে না বললেই চলে। এ কারণে দিন যত যাচ্ছে ব্যাংকগুলোতে আমানতের তুলনায় ঋণের প্রবৃদ্ধিও ততই কমছে। গত এক মাসের ব্যবধানে আমানত ও ঋণের ব্যবধান কমেছে ৪১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ঋণ-আমানতের অনুপাত এখন দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। অথচ এর আগের মাসেই এ অনুপাত ছিল ৭০ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে এখন দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট ছয় লাখ ৪৮ হাজার ৬৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আমানত আছে। এ সময় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে চার লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। ফলে ঋণ ও আমানতের গড় অনুপাত (এডিআর) দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ সময়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গড় আমানত বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আর ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র আট দশমিক ৯৭ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় খাতের চার বাণিজ্যিক ব্যাংকে গড় ঋণ বিতরণ পাঁচ দশমিক ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। আর আমানতে গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। ফলে ঋণ আমানতের গড় অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা এর আগে ছিল ৫৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ২৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এসব ব্যাংকের এডিআর দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, আগে যা ছিল ৭৯ দশমিক ১১ শতাংশ।
এদিকে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে ১৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। তাদের এডিআর রয়েছে ৭৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, আগের মাসে যা ছিল ৭৬ দশমিক ৫৩ শতাংশে। বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোতে ১৬ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বেড়েছে মাত্র আট দশমিক ৬৬ শতাংশ। তাদের এডিআর দাঁড়িয়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগের মাসে এডিআর ছিল ৭০ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এইভাবে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর গড় ঋণ বিতরণ ১৫ দশমিক শূন্য এক শতাংশ দাঁড়িয়েছে। আর আমানতে গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ। ফলে ঋণ আমানতের গড় অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা আগে ছিল ৮১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের একই সময় সবগুলো ব্যাংকের মধ্যে ১৯টি ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক পর্যায়ে রয়েছে।
