দাওয়াত কবুল

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২২:০৩
লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর ফোন করে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তখনই মিলেছিল আমেরিকায় যাওয়ার মৌখিক আমন্ত্রণ। এবার আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ এসে পৌঁছাল চিঠির মাধ্যমে। গত শুক্রবার ভারত সফরে এসেছিলেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্র সচিব উইলিয়াম বার্নস। তার হাত দিয়েই আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন ওবামা। আর মোদীও জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন তিনি। অর্থাত্ দাওয়াত কবুল। ২০০২ সালে মার্কিন ভিসা না পাওয়ার বেদনা তিনি ভুলে গেছেন ওবামার দাওয়াত পেয়ে। ওবামার চিঠি পাওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাতেই জানা গিয়েছে, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে একবিংশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য অংশিদারিত্ব হিসেবে তুলে ধরতে মোদীর সঙ্গে আরো ভালোভাবে কাজ করতে আগ্রহী ওবামা। প্রত্যুত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোদীর বক্তব্য, ফলপ্রসূ একটি সফরের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। ভারত-আমেরিকা দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে চান। একই সঙ্গে মোদীর দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্ এই দুই গণতন্ত্রের মধ্যে উন্নত সম্পর্ক শুধু দুই দেশের পক্ষেই লাভজনক হবে না, বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে আশাবাদী মোদী। শুধু মোদীর সঙ্গেই নয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গেও দেখা করেন উইলিয়াম বার্নস। লোকসভা নির্বাচনে মোদীর বিপুল জয়ের প্রশংসা করে বার্নসের বক্তব্য, ‘ভারত ও নরেন্দ্র মোদীর সাফল্যে আমেরিকার বড়সড় ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের দুইটি বৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত ও আমেরিকা একে অপরের সাফল্যের ভাগীদার। নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের এই অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।’ মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বার্নস। তার মতে, মোদী এক জন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। ২০০২ সালের গোধরা পরবর্তী দাঙ্গার সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকায় মোদীকে ২০০৫ সালে ভিসা দিতে অস্বীকার করে মোদী প্রশাসন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব কম হয়নি। মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এ বিষয়ে নতুন করে আর মুখ খুলতে চায়নি আমেরিকা। এ দিন বার্নসের দাবি, মোদীকে ভিসা না দেয়ার বিষয়টি অনেক পুরোনো বিষয়। এ নিয়ে এখন কথা বলার কোনো মানেই হয় না। একইসঙ্গে তিনি জানান, মোদী নিজে এই দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী বলেই বৈঠকে একবারও ভিসা প্রসঙ্গ তোলেনি।