মিরপুরে পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৬
রাজধানীর মিরপুরে গতকাল রবিবার ভোররাতে পুলিশ হেফাজতে মাহবুবুর রহমান সুজন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, সুজন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। গ্রেফতারের পর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বজনদের অভিযোগ, সুজন মিরপুর এলাকার ঝুট ব্যবসায়ী। মিরপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর জাহিদুল তার কাছে প্রতিমাসে একলাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেয়ায় তাকে হাজারীবাগের জাফরাবাদ এলাকা থেকে ধরে থানায় নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের পা-হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন রয়েছে। মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য পুলিশের তরফ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে সুজনের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সাব-ইন্সপেক্টর জাহিদুলকে ক্লোজ (প্রত্যাহার) করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। মিরপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন জানান, শনিবার মিরপুর এলাকা থেকে ১৪৫ পিস ইয়াবাসহ জাকির ও মিঠুন নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তারা বাঙ্কু সুজনের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে থাকে। এরপর তাদের দেয়া তথ্যমতে শনিবার রাতেই হাজারীবাগ থানা পুলিশের সহায়তায় জাফরাবাদ বাসা থেকে সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বাসা তল্লাশী করে দুইটি ম্যাগাজিন ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আর বাসা থেকে গুলি উদ্ধারের ঘটনায় সুজনের সঙ্গে তার স্ত্রী মমতা সুলতানা লুচিকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। গ্রেফতার করে থানায় আনার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সুজন জানায়, সাদা বাবু নামে তার এক সহযোগীর কাছে অস্ত্র রয়েছে। ওই অস্ত্র উদ্ধারের জন্য রাত পৌনে চারটার দিকে মিরপুর এলাকায় অভিযানে বের হয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ ভ্যানে সুজন অসুস্থ হয়ে পড়লে (শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়) তাকে স্থানীয় লতিফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে স্থানান্তর করা হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের সহযোগী সুজন মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দা। এছাড়াও শাহআলী থানার ৫১ নম্বর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং পলাতক আসামি। ওসি জানান, সুজনের স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, সুজন প্রচুর পরিমাণ ইয়াবা সেবন করতো। এ কারণে তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা থাকায় এলাকা ছেড়ে কেরানীগঞ্জ, হাজারীবাগের জাফরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। তবে সুজনের স্ত্রী লুচি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সাংবাদিকদের জানান, সুজন মিরপুর-পল্লবী এলাকায় ঝুট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। কিছুদিন আগে মিরপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর জাহিদুল ইসলাম তার (সুজন) কাছে প্রতিমাসে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আর চাঁদা না দেয়ার কারণে শনিবার রাত ১২টার দিকে এসআই জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫/৬ জন পুলিশ জাফরাবাদ বাসায় যায় এবং তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এতে তিনি মারা যান।