প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান না দেয়ায় শেরপুরের আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের নির্মাণ কাজ ৫ বছর ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেইসাথে বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজও বন্ধ। অর্ধসমাপ্ত বাস টার্মিনালটি বর্তমানে গবাদিপশুর চারণভূমি, ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের কারখানা ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। জনবহুল শেরপুর জেলা শহরের প্রধান সড়কের উপর দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল রোধ ও যানজট নিরসনের জন্য ২০০৮ সনে শেরপুর পৌর এলাকায় মৃগী নদী সংলগ্ন অষ্টমীতলায় ৩ একর জমির উপর ১টি আধুনিক দ্বিতল বাস টার্মিনাল এবং সেখান থেকে কানাশাখোলা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের শুধুমাত্র বাস টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও মাটি ভরাট কাজের জন্য ২ কোটি ৫২ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়। ২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একবছরের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য ৩ কিস্তিতে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পাওয়া গেলেও অবশিষ্ট টাকার জন্য দীর্ঘ ৫ বছর ধরে এর নির্মাণ কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে পৌর প্রকৌশলী জানান, যথাসময়ে বরাদ্দকৃত টাকা না পাওয়ায় এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এ প্রকল্পের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ শেষ করতে অন্যূন ২ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ৭ হাজার ৬শ’ বর্গফুট আয়তনের নির্মাণাধীন টার্মিনাল ভবনে বিভিন্ন রুটের গাড়ির আলাদা কাউন্টার, যাত্রীদের বসার স্থান, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারসহ আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে।
অপরদিকে বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ জানান, ইতিপূর্বে বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট নির্মাণ কাজের জন্য ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।
